আরএসএস-বিজেপির তৎপরতা জলপাইগুড়িতে

জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলায় রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে আরএসএস এবং বিজেপি যৌথভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। মুখে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার কথা বললেও আরএসএস এবং বিজেপি নেতারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শামিল হচ্ছেন। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস জলপাইগুড়ি জেলায় যখন অভ্যন্তরীণ বিরোধে জর্জরিত, তখন গেরুয়া শিবিরের যৌথ তৎপরতা জেলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে।

ইতিমধ্যেই জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে আরএসএস কেন্দ্রপিছু সাত শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে নামিয়েছে। তাঁরা স্থানীয়স্তরে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বিজেপি নেতাদের নিয়ে কৌশলে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আরএসএস এবং বিজেপি যৌথভাবে প্রচুর খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিজেপি এবং আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি জলপাইগুড়িতে চিন আন্দোলনে আরএসএস নেতা তরুণ মাহাতো, দেবাশিস লালার সঙ্গে একযোগে শামিল হয়েছেন জেলা বিজেপি সভাপতি বাপি গোস্বামী, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার নেতা পলেন ঘোষ। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব তাঁদের আন্দোলনের রূপরেখা সম্পর্কে জলপাইগুড়ির আরএসএসের দপ্তরে আগাম জানিয়ে দিচ্ছেন। সূত্রের খবর, নিয়মিতভাবে জেলা বিজেপি সভাপতির সঙ্গে আরএসএসের জেলা নেতৃত্বের বৈঠক হচ্ছে। সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের বুথ পর্যায়ে বিজেপির সাংগঠনিক দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিগত লোকসভা নির্বাচনে যে সমস্ত বুথে বিজেপি প্রার্থী প্রত্যাশিত ভোট পাননি, সেই বুথগুলির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিজেপির শক্তিকেন্দ্র মণ্ডল কমিটি এবং অঞ্চল নেতত্বকে আরএসএস নেতত্বের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে কাজ করতে বলা হয়েছে। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে জয়েন্ট ভিশন।

- Advertisement -

বিজেপির এক শীর্ষনেতা জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস জলপাইগুড়ি জেলায় দ্রুত সমর্থন হারাচ্ছে। তার উপর তৃণমূল নেতাদের উপদলীয় কোন্দল বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজগঞ্জ বিধানসভা ছাড়া সব কেন্দ্রেই বিজেপি লিড পেয়েছিল। আরএসএসের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচিতে শামিল হওয়ায় তাঁদের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্য পাওয়া এখন শুধু সময়ে অপেক্ষা। আরএসএস কর্মীরা চা বাগান এলাকায় শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের সমস্যা জানছেন। এই এলাকায় আরএসএস বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করেছে। সেখানে শ্রমিক পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে পড়াশোনা করানো হচ্ছে। গয়েরকাটা এলাকায় আরএসএস একটি ছাত্রাবাস তৈরি করেছে। সেখানে থেকে বেশ কিছু ছাত্র পড়াশোনা করছে। জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের সবগুলিই দখল করা এখন তাদের মূল লক্ষ্য