ফালাকাটায় গোপনে সক্রিয় সংঘ পরিবার

565

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : ফালাকাটা উপনির্বাচনকে টার্গেট করে সংঘ পরিবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আরএসএস নিয়ন্ত্রিত ১০টি সংগঠন গোপনভাবে ফালাকাটায় কাজ করছে। বিজেপি সহ আটটি শাখা সংগঠন প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, গেরুয়া শিবিরের এতগুলি সংগঠনের মোকাবিলায় তৃণমূল কংগ্রেস হিমসিম খাচ্ছে। ধর্মকে পুঁজি করে আরএসএস যেভাবে ঘর গোছাচ্ছে, তৃণমূল সেভাবে কাজ করতে পারছে না। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা প্রকাশ্যে তা মানতে চাননি। তাঁদের দাবি, দলের সমস্ত শাখা সংগঠন এখন সক্রিয় রয়েছে। বিজেপির সমস্ত সংগঠন ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতার বাতাবরণ তৈরি করছে বলে তাঁদের অভিযোগ। ধর্মের নামে তৃণমূল রাজনীতি করে বলে বিজেপি পালটা দাবি জানিয়েছে।

২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই ফালাকাটায় বিজেপির উত্থান শুরু হয়। পদ্ম শিবির সেবার এই বিধানসভা কেন্দ্রের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের দখল নেয়। ২০১৮-র লোকসভা নির্বাচনে তারা চূড়ান্ত সাফল্য পায়। ওই নির্বাচনে বিজেপি ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পায়। ২০১১ থেকে বরাবরের জেতা আসন হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল বিজেপির তুলনায় ২৭ হাজার ভোট কম পায়। সূত্রের খবর, গেরুয়া শিবিরের এই সাফল্যের জেরে সংঘ পরিবার ফালাকাটার দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়। উপনির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় গোটা জেলার মধ্যে তারা আপাতত ফালাকাটাকেই পাখির চোখ করে নিয়েছে। এক-দুবছর আগে অস্তিত্ব না থাকলেও এখন আরএসএস-এর ১০টি সংগঠন কাজ করছে। এদিকে, বিজেপির সাতটি মোর্চা সহ মূল সংগঠন রাজনৈতিকভাবে ময়দানে নেমেছে। কিন্তু নতুনভাবে তৈরি বিজেপির এসব সংগঠনের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের একাধিক শাখা সংগঠন ফালাকাটায় রয়েছে। সূত্রের খবর, ক্ষমতার আবহে থাকায় শাসকদলের শাখা সংগঠনগুলির একাংশ এখনও সেভাবে সক্রিয় নয়। সম্প্রতি শাখা সংগঠনগুলির সঙ্গে তৃণমূলের ব্লক কমিটির দূরত্ব নিয়ে দলের অন্দরে প্রশ্ন ওঠে। শাখা সংগঠনের সভাপতিরা অনেক সময় দলে মর্যাদা পান না বলেও অভিযোগ।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে সবদিক থেকে বিজেপিকে ঠেকানো সম্ভব কি না তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও চর্চা হচ্ছে। ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র-যুব, সংখ্যালঘু, মহিলা, এসসি, এসটি, ওবিসি, শিক্ষা সেল, কৃষক, আইএনটিটিইউসি সহ একাধিক শাখার ব্লক ও অঞ্চল কমিটি রয়েছে। এসবের পালটা হিসেবে বিজেপির সাতটি মোর্চা সংগঠনের পাশাপাশি আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বহু সংগঠন কাজ করছে। সংগঠনের সংখ্যার নিরিখে বিজেপির তুলনায় তৃণমূল অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

তৃণমূলের ফালাকাটা ব্লক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ রায় অবশ্য বলেন, আমাদের সমস্ত শাখা সংগঠন এখন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কোথাও কোনও সমস্যা নেই। বিজেপি ও আরএসএস-এর সংগঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওদের ওইসব সংগঠন ধর্মের ভিত্তিতে কাজ করে সাম্প্রদায়িকতার বাতাবরণ তৈরি করছে। এসব করে লাভ হবে না। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাজনীতি করে। অন্যদিকে, বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধর্মের নামে রাজনীতি করার পালটা অভিযোগ তুলেছে। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, তৃণমূল আগে সংখ্যালঘু আর এখন হিন্দু তোষণ নিয়ে রাজনীতি করছে। ফালাকাটায় মানুষ ওদের সঙ্গে নেই। তাই বিজেপি নিয়ে এসব বলেও ওদের কোনও লাভ হবে না। আরএসএস প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সাতটি মোর্চা শক্তপোক্তভাবে কাজ করছে। আরএসএস হল জাতীয়তাবাদী সংগঠন। তাই ওইসব সংগঠন নিয়ে কোনও মন্তব্য নয়।