কে আরোগ্য সেতু অ্যাপ তৈরি করল, কেন্দ্রের জবাবে ধোঁয়াশা

750

নয়াদিল্লি: কে বা কারা আরোগ্য সেতু অ্যাপ তৈরি করল সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই কেন্দ্র সরকারের কাছে। শুনতে অবাক লাগলেও আরটিআই করে এমনটাই তথ্য উঠে এসেছে। যা নিয়ে দেশজুড়ে ইতিমধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, অতিমারী সঙ্কটে সরকারি–বেসরকারি সহযোগিতায় স্বচ্ছভাবে আরোগ্য সেতু অ্যাপ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সেন্ট্রাল ইনফরমেশন কমিশন (সিআইসি)। ‘ধোঁয়াশা’ না কাটায়, এ বার কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠাল তারা।

এদিকে আরোগ্য সেতুর ওয়েবসাইটে লেখা, অ্যাপটি তৈরি করেছে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার এবং কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক। এই দুই বিভাগের কাছে আরটিআই করে সেকথাই জানতে চাওয়া হয়েছিল। দু’‌টি বিভাগই অস্বীকার করেছে। জানিয়েছে, তারা অ্যাপটি তৈরি করেনি। তাহলে তৈরি করল কে? সেই নিয়েই ধন্দ। কেন্দ্রকে নোটিস পাঠাল কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন।

- Advertisement -

যদিও কেন্দ্র সরকারের তরফে বলা হয়, ‘মাত্র ২১ দিনের রেকর্ড সময় আরোগ্য সেতু অ্যাপ তৈরি করা হয়েছিল। অতিমারী সঙ্কটে লকডাউনের সময় একটি ভারতীয় কনট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। সেই চাহিদা পূরণ করতেই দেশের শিল্প, শিক্ষা জগৎ এবং সরকারের বিভিন্ন আধিকারিকরা দিনরাত কাজ করে আরোগ্য সেতুর মতো একটি সুরক্ষিত অ্যাপ তৈরি করেছিল। দেশে করোনা ঠেকাতে আরোগ্য সেতু অ্যাপের ভূমিকা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকাই উচিত নয়। এই অ্যাপটি তৈরির কাজে যারা যুক্ত, তাদের নাম পাবলিক ডোমেইনে আগে থেকেই রয়েছে।’‌

সৌরভ দাস নামে এক আরটিআই সমাজকর্মী ইনফরমেশন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, আরোগ্য সেতু অ্যাপ কে বানিয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি মন্ত্রকের কাছ থেকে জবাব পাননি। তাঁর প্রশ্ন ছিল, কে প্রথম ওই অ্যাপ বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করিয়েছিলেন, কারা ওই অ্যাপ তৈরিতে যুক্ত ছিলেন ইত্যাদি বিষয়ে জানতে চেয়েও কোনও তথ্য পাননি।

এরপরই আরটিআই–এর শীর্ষ কর্তা নোটিসে লিখেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতে অস্বীকার করলে তা মানা যায় না।’‌ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘চিফ পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারদের মধ্যে কেউই বলতে পারেননি, এই অ্যাপ কে তৈরি করেছে। ফাইলগুলো কোথায়। খুবই হতাশজনক।’‌