রণজিত্ ঘোষ, শিলিগুড়ি : দীর্ঘদিন ধরেই নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন (এনজেপি) থেকে শুরু করে শিলিগুড়িতে রেলের বিভিন্ন কাউন্টারে রিজার্ভেশন ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে না। রিজার্ভেশনের জন্য গেলে সাধারণ মানুষের হাতে একটি অস্পষ্ট রাবার স্ট্যাম্প মারা কাগজ দেওয়া হচ্ছে। এই কাগজের লেখা এতটাই অস্পষ্ট যে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। রেলের এমন ভূমিকায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা দ্রুত রিজার্ভেশন ফর্ম দেওয়ার দাবি তুলেছেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সুহানন চন্দ বলেন, ছাপাখানায় কিছু সমস্যার জেরে সম্ভবত শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় এই সমস্যাগুলি হচ্ছে। তবে, এতদিন ধরে এই সমস্যা চলার কথা নয়, রেলের ছাপাখানা বন্ধ থাকলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করতে হবে।

এনজেপি স্টেশন ছাড়াও শিলিগুড়ি জংশন স্টেশন, ভেনাস মোড়ের সিটি বুকিং কাউন্টার এবং টাউন স্টেশন- এই চারটি জাযগায় রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। বহু মানুষ সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িযে ফর্ম পূরণ করে টিকিট কাটেন। কিন্তু বছর দুয়েক ধরে এই কাউন্টারগুলিতে ছাপানো রিজার্ভেশন ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে না। একটি সাদা কাগজের উপরে স্ট্যাম্প মেরে সেটাকেই ফর্ম হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সিংহভাগ স্ট্যাম্প মারা কাগজেই ট্রেনের নাম, ট্রেনের নম্বর, সফরের তারিখ, যাত্রীদের নাম, বয়স কোথায় কী লিখতে হবে বোঝা যাচ্ছে না। আবার কোনো একটি তথ্য সঠিকভাবে না ভরে দিলে কাউন্টার থেকে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে। হয়তো একটু ভুলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর পরেও টিকিট কাটা যাচ্ছে না। সাধারণ রিজার্ভেশন ফর্মে যাতায়াতের টিকিট একসঙ্গে কাটার জন্য লেখার জায়গা করা থাকে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে রাবার স্ট্যাম্পে ওই তথ্য দেওয়ার জায়গা না থাকায় দুটি আলাদা ফর্মে যাতায়াতের টিকিট কাটতে হচ্ছে।

সিটি বুকিং কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন সুজিত মণ্ডল। তিনি বেঙ্গালুরু যাওয়ার জন্য আসন সংরক্ষণ করবেন। কাউন্টার থেকে একটি রিজার্ভেশন ফর্ম নিযে এসে বললেন, এখানে তো কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। কোথায় নাম, কোথায় ট্রেনের নাম, নম্বর লিখব কিছুই বুঝতে পারছি না। শিলিগুড়ির স্টেশন ফিডার রোডের বাসিন্দা বিষ্ণু গোয়েল তাঁর নিকট আত্মীয়ের জন্য এনজেপি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেসের টিকিট কাটবেন বলে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বললেন, দু-আড়াই বছর ধরে এই কাউন্টার ছাড়াও শিলিগুড়ির সব রিজার্ভেশন কাউন্টারগুলিতেও এভাবেই স্ট্যাম্প মেরে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিয়মিত টিকিট কাটি বলে  ফর্ম অস্পষ্ট থাকলেও কোথায় কী লিখতে হবে সেটা বুঝে গিয়েছি। কিন্তু যাঁরা প্রথমবার রিজার্ভেশন করছেন তাঁদের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছে।

এনজেপি রেলস্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টারের কর্তব্যরত রেলকর্মী বলেন, আমরাও সাধারণ মানুষের সমস্যাটা বুঝি। কিন্তু সঠিকভাবে ফর্ম পূরণ করে না এলে আমাদের তো বুঝতে সমস্যা হয়, আবার ওই ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করে টিকিট কাটতে গেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য লোকজনও চিত্কার চেঁচামেচি জুড়ে দেন। ভক্তিনগর রেলযাত্রী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীপক মোহান্তি বলেন, বহুদিন ধরে এভাবেই রিজার্ভেশন চলছে। আমরা বহুবার রেলের কর্তাদের বলেছি, একটা ফর্ম ছাপাতে কত পয়সার প্রয়োজন হয়? কিন্তু তার পরেও রেল কোনো পদক্ষেপই করছে না।