রক্তেই সুর, খালি পেটেই গান গেয়ে চলেন মীরচকের রুনু শেখ

127

মালদা: হরিনাম হোক কিংবা আল্লার গান, সবই তাঁর কাছে সমান। পেটে ভাত নেই, পকেটে টাকা নেই, লকডাউন পরিস্থিতিতে সামনে শুধুই অন্ধকার। কিন্তু গলায় সুর টইটম্বুর। ছাদের শাটারিংয়ের কাজ করতেন মালদার মীরচকের মহম্মদ রুনু শেখ। ঘরে স্ত্রী আছে। এখন সব বন্ধ থাকা কাজও নেই। ধার দেনা করে খেয়ে-না-খেয়ে চলছে সংসার। কিন্তু গান থামেনি। সকালের দিকে পেঁয়াজি মোড়ের চায়ের দোকানে বসলে ভিড় জমে যায় তাঁর গান শুনতে। কেউ বলেন, ওই গানটা, কেউ বলেন ওইটা। কারও অনুরোধই ফেলেন না রুনু শেখ। তাঁর গানে ধর্ম নেই। সম্প্রদায় নেই। সুরই তাঁর ধর্ম। কোথাও গান শেখেননি। একসময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গেয়েছেন। এখন প্রায় ৫৫ হয়ে গেল বয়স। লকডাউনের আগে দিনে তিন-চারশো টাকা তবু রোজগার হত। এখন সবই বন্ধ। সবাই যে ভালোবেসে গান শোনেন, তা নয়। গরিব মানুষকে নিয়ে মজাও করেন অনেকে। রুনু এসব কিছুকেই পাত্তা দেন না। একমনে গানে মজে থাকেন। আশপাশের ভিড়, কথাবার্তা কিছুই যেন তাঁর কানে ঢোকে না। গলা খুলে গাইতে থাকেন, ‘সারি দুনিয়া কা বোঝ হম উঠাতে হ্যায়’। তোবড়ানো গাল, বেশ ক’দিনের না কাটা কাচা-পাকা দাড়ি। খিদের জ্বালাকে ছাপিয়ে সব শেকল ছিঁড়ে ভেসে ওঠে তাঁর সুর।

এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরও বিয়ে হয়েছে। তবে দেখে না কেউই। লোকের বাড়ির ছাদ ঢালাই করেন রুনু শেখ। তবে নিজের মাথার ওপর ছাদটা যে নড়বড়ে রয়ে গেল, সেদিকে আর তাকানো হল না গানের নেশায়। সকালে পেঁয়াজি মোড়ে চায়ের দোকানটায় এসে যখন বসেন, অনেকেই বলেন গান গাইতে। কোনওদিন হয়ত বলেন, ‘আজ মন ভালো নেই গো’। তবু গানকে ঠেলতে পারেন না। গেয়েই ফেলেন। নামী শিল্পী হলে পয়সা ছড়িয়ে পড়ত সামনে। কিন্তু রুনু শেখের গান সবাই বিনে পয়সাতেই শুনে বাড়ি চলে যান। রুনু গান গেয়ে খালি পেটেই বসে থাকেন।

- Advertisement -