কোচবিহারে মেখলা ও ভাওয়াইয়া শিল্পী হাবের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

161

বক্সিরহাট: বারকোদালিতে ভাওয়াইয়া রুরাল ক্রাফট ও কালচারাল হাব এবং মহিষকুচিতে মেখলা হাবের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে রিমোটের মাধ্যমে রাজ্যের একগুচ্ছ প্রকল্পের সঙ্গে ওই দুটি কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। এদিন জেলার যে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন হয় তার মধ্যে ওই দুটি তুফানগঞ্জ ২ ব্লকে। অপরটি মেখলিগঞ্জে স্পেশাল ইকোনোমিক জোন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি ওই দুটি কেন্দ্রের উদ্বোধনের পর ফিতে কেটে ভাওয়াইয়া রুরাল ক্রাফট ও কালচারাল হাবের দ্বারোদঘাটন করেন কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ, তথা কোচবিহার রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতীম রায়।

অপরদিকে, মহিষকুচির মেখলা হাবের আনুষ্ঠানিক দ্বারোদঘাটন করেন কোচবিহার জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি পুষ্পিতা রায়। একই সঙ্গে এদিন বারকোদালির ভাওয়াইয়া হাবের ভিতর আন্তর্জাতিক রাজবংশী হেরিটেজ সংগ্রহশালারও উদ্বোধন করেন পার্থবাবু। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদি ও গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের অর্থানুকূল্যে ৯১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বারকোদালি ভাওয়াইয়া আকাদেমি ও পরিষদের জমিতে ভাওয়াইয়া হাব ও ২ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মহিষকুচির গেদারচরে মেখলা হাব তৈরি করা হল। এতে ব্লক এলাকার ২৫০০ জন মেখলা শিল্পী ও ২৫০০ জন তাঁত শিল্পী উপকৃত হবেন। সেজন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কোচবিহারবাসীর তরফে ধন্যবাদ জানান।

- Advertisement -

ভাওয়াইয়া আকাদেমি ও পরিষদের সম্পাদক তথা সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জয়ন্ত বর্মন জানান, জেলার ভাওয়াইয়া শিল্পীদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হল। এখন থেকে ওই হাবে একদিকে স্থানীয় হস্তশিল্পীরা বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করতে পারবেন এবং তা সরাসরি বিক্রি করে স্বনির্ভর হতে পারবেন। অপরদিকে, গানের রেকর্ডিং স্টুডিওর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের গান আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে পারবেন। সেখানে রাজবংশী সংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের সংগ্রহশালার সঙ্গে উৎপাদিত হস্তশিল্পের প্রদর্শনী কেন্দ্রও থাকবে। এছাডাও থাকবে উত্তরবঙ্গ সম্পর্কিত বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও বইপত্রের লাইব্রেরি।

এদিন দুটি অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদি ও গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারীক মলয় রায় বসুনীয়া, তুফানগঞ্জের মহকুমা শাসক কৌশিক সিনহা, কোচবিহার পুর প্রসাশনিক বোর্ডের সদস্য রাহুল কুমার রায় সহ বিভিন্ন শিল্পী ও কলাকুশলী।