করোনাকালে এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের পাশে গ্রামীণ চিকিৎসকরা

64

বর্ধমান: করোনাকালে সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন গ্রামীণ চিকিৎসকরা। সেক্ষেত্রে পূর্ব বর্ধমান জেলায় শুরু হয়েছে গ্রামীণ চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া। মঙ্গলবার থেকে জেলার জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই শিবির চলে বিএমওএইচ ঋত্বিক ঘোষের উপস্থিতিতে। এদিকে প্রশিক্ষণ নিয়েই কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে পড়ার অঙ্গীকার করলেন গ্রামীণ চিকিৎসকরা।

রাজ্যের অন্যান জেলার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গত ১৫ এপ্রিল জেলায় ২০২ জনের সংক্রামিত হন। সেদিন অবধি জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩২২৪। তারপর থেকে পরবর্তী ৩২দিনে অর্থাৎ ১৭ মে পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৪৪১ জন। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে প্রকাশ তথ্য থেকেই স্পষ্ট গত ৩২ দিনে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৫২১৭ জন। অপর দিকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় কোভিডে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৮০ জন। ১৭ মে সেই মৃতর সংখ্যা ২৬১। অর্থাৎ গত ৩৩ দিনে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে জেলায় ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই রিপোর্ট-ই ভাবিয়ে তোলে জেলা প্রশাসনকে। এরপরেই জেলার গ্রামীণ এলাকায় কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গ্রামীণ ডাক্তারদের কাজে লাগানোর বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর উদ্যোগী হয় বলে খবর।

- Advertisement -

গ্রামে গ্রামে কোভিড সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে গ্রামীণ চিকিৎসকরা সামিল হবেন বলে জামালপুর হাসপাতালের বিএমওএইচ ঋত্বিক ঘোষ জানান। তিনি বলেন, ‘জামালপুর ব্লকে ৩৮৪ জন গ্রামীণ চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁদের জন্যই দুই দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা গ্রামীণ চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা করাতে যান। সেক্ষেত্রে গ্রামীণ চিকিৎসকরা কোনও রোগীর মধ্যে কোভিড সংক্রমণের লক্ষণ দেখলে তার ব্যাপারে হাসপাতালে জানাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই ব্যক্তির কোভিড চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’