ধূপগুড়ি : জেলায় সেরা গ্রামীণ লাইব্রেরি স্রীকৃতি পেলেও আজ কর্মীসংকটে ধুঁকছে গাদং ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি গ্রন্থাগার উদয়ন সংঘ পাঠাগার। গ্রন্থকারিক অবসর নেওয়ায় পাঠাগারে তালা ঝুলেছে। তবে নতুন কর্মী দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে। সদ্য অবসর নেওয়া গ্রন্থকারিক অরুণকুমার ঘোষ বলেন, ‘এর আগেও একজন কর্মী ২০১৭ সালে অবসর নিয়েছেন। সম্প্রতি ৩১ অক্টোবর আমি অবসর নিয়েছে। বর্তমানে কর্মীর অভাবে পাঠাগার বন্ধ রয়েছে।’ ধূপগুড়ির বিডিও শঙখদীপ দাস বলেন, ‘কর্মী নেই বা কী অবস্থায় রয়েছে, তা জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও জানানো হবে।’

উদয়ন সংঘ পাঠাগারে ছয় হাজারেরও বেশি বই রয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত পাঠকের সংখ্যাও যথেষ্ট। চলতি বছর ৩১ আগস্ট রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নজরুল মঞ্চে গ্রামীণ গ্রন্থাগার হিসাবে জলপাইগুড়ি জেলায় সেরার শিরোপা পায় এটি। পুরস্করের শিরোপা আগামীদিনেও ধরে রাখার চেষ্টায় পাঠাগারের সভাপতি ও সম্পাদক জেলা গ্রন্থকারিকের কাছেও কর্মী দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও তার কোনো উত্তর আসেনি।

পাঠাগারের সভাপতি প্রদীপ ভৌমিক বলেন, ‘কর্মী নেই, তাই পাঠাগার খোলা বা বন্ধ করার লোকের অভাব রয়েছে। শুধু তাই নয়, পাঠাগার বন্ধ থাকায় বইগুলিও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ পাঠাগারের সম্পাদক প্রফুল্ল রায় বলেন, ‘চিঠি দিয়ে জেলা গ্রন্থকারিককে জানানো হয়েছে।’

গাদং ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠাগারটির নীচ তলায় বিএসএনএলের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস। তার সামনে ছোটখাটো পার্কের মতোও তৈরি করা হয়েছে।  কর্মী না  থাকায় পাঠকরাও পাঠাগারে যাচ্ছেন না। লাইব্রেরিতে কর্মী নিয়োগ না করা হলে আগামী দিনে উদয়ন সংঘ পাঠাগারের শিরোপা ধরে রাখা যাবে না বলে মনে করছেন গাদং ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। গাদং ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাতলা হাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মানিক দেবনাথ বলেন, ‘ পাঠাগার নিয়ে মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু এভাবে কর্মীর অভাবে পাঠাগার বন্ধ হবে তা কেউই ভাবতে পারেননি। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কাছেও ঘটনাটি জানানো হবে।’

ছবি- উদয়ন সংঘ পাঠাগার

তথ্য ও ছবি- শুভাশিস বসাক