আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের অধীনে থাকা একাধিক হাটের জমি জবরদখল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাটের জমি দখল করে কোথাও দোকানপাট গজিয়ে উঠেছে, একাধিক বাড়ি ঘর তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হাটের জমিতে বড় বড় গোডাউন বানিয়ে অনেকে ভাড়া খাটাচ্ছেন। বিশেষ করে, ফালাকাটা ও বীরপাড়া হাটে জায়গা জবরদখল সবচেয়ে বেশি হয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ অবশ্য জবরদখল হওয়া হাটের জমি পুনরুদ্ধার করতে কোনো পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, শাসকদল আশ্রিত অনেকেই এই জমি দখলের কাজে যুক্ত। তাই তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদ কারও বিরুদ্ধেই কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শিলা দাস সরকার বলেন, ‘ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদের হাটগুলির অবস্থা সম্পর্কে জানতে হাটের ইজারাদার ও জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। ওই বৈঠকে হাটের জবরদখল আটকাতেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলায় মোট ৫৪টি হাট ছিল হাটল্যান্ডের জমিতে। সেই জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫৪ একর। পরবর্তী সময়ে হাটল্যান্ডের জমির দায়িত্ব মার্কেট ফান্ডের হাত থেকে চলে যায় জেলা পরিষদের হাতে। ২০১৪ সালে আলিপুরদুয়ার জেলা হওয়ার দুই বছর পরে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ গঠিত হয়। তারপর জেলা পরিষদ হাটের দায়িত্ব নেয়। এখন আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের অধীন মোট ১৯ টি হাট আছে। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকায় ২,৭ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ জমিই হাটল্যান্ডের। শহরের প্রধান দুটি বাজার নিউটাউন এবং হাটখোলা দুটিই হাটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও শামুকতলা, কুমারগ্রাম, হ্যামিল্টনগঞ্জ, কুলকুলি,
মথুরা সহ জেলার আরও বেশ কিছু জায়গায় হাটল্যান্ডের বিশাল জমি আছে। সব হাটেই একাধিক বসতবাড়ি,  অন্যদিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও গড়ে উঠেছে বহুতল, গোডাউন সহ অন্য নির্মান কাজ। কিন্তু  হাটল্যান্ডের এই জমিগুলি এখন কী পরিস্থিতিতে আছে তার কোনো তথ্য নেই আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের কাছে।
জমির উপর সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অবৈধভাবে হাটল্যান্ডের জমি দেদার কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিটি হাটেই জমি মাফিয়াচক্ররা সক্রিয়। বিশেষ করে ফালাকাটা হাট ও বীরপাড়া হাটের জমি সবথেকে বেশি জবরদখল হয়েছে। অনেকেই হাট এলাকায় বিল্ডিং তৈরি করেছেন। ওই বিল্ডিং ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি বিক্রিও হচ্ছে। কয়েক কোটি টাকা দরে দোকানগুলি বিক্রি হচ্ছে।

ফালাকাটা হাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রতন বর্ধন বলেন, ‘আমাদের হাট ব্যবসায়ী সমিতির কোনো সদস্য হাটের জায়গা দখল করেনি। যদি কেউ করে থাকে তবে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এর জন্য জেলা পরিষদ যাতে সঠিক পদক্ষেপ করে তার দাবিও আমরা রাখছি।’
আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, ‘জেলার হাটগুলির বেহাল অবস্থা। অথচ জেলা পরিষদ হাটগুলির কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না করে কর আদায় করছে। আবার অনেক শাসকদলের নেতা হাটগুলির জমি দখল করে রেখেছেন। তারা ওই জমিতে বিল্ডিং তৈরি করে ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি মোটা টাকায় বিক্রিও করে দিচ্ছেন। কিন্তু সব জেনেও জেলা পরিষদ কোনো পদক্ষেপ করছে না।এই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আমরা জেলা পরিষদ ঘেরাও করে আন্দোলনে নামব।’
আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, ‘জেলার পরিষদের অধীন থাকা হাটগুলির কী অবস্থা সে বিষয়ে জানতে পদক্ষেপ করা হয়েছে। কোন হাটের কত জমি জবরদখল হয়ে আছে সে বিষয়ে জানতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। ওই রিপোর্ট হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। হাটগুলিতে উন্নয়নমূলক কাজ করতে একটি এস্টিমেট তৈরি করা হয়েছে।

তথ্য : ভাস্কর শর্মা