দৃষ্টিশক্তি হারালেও হারাননি জেদ, এমএ ইতিহাসে ভরতি সাবিনা

204

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : পরিবারের আর্থিক কষ্ট দূর করার পাশাপাশি আমার মতো যাঁরা প্রতিবন্ধী, তাঁদেরকে যাতে আমি সাহায্য করতে পারি, তাই ভালো চাকরির আশায় উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে চাই। বুধবার জলপাইগুড়ির আনন্দ চন্দ্র কলেজ অব কমার্সে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষায় ইতিহাসে মাস্টার ডিগ্রিতে ভরতি হতে এসে একথা বলেন ১০০ শতাংশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাবিনা বানু।

মাল ব্লকের রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ হাঁসখলি এলাকার আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান ২৬ বছর বয়সি সাবিনা। একদিকে আর্থিক অনটন, অন্যদিকে চোখে দেখতে না পাওয়া। তার পরেও উচ্চশিক্ষার মধ্যে দিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাবিনার জেদকে সম্মান জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিন কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্ধার্থ সরকার জানিয়েছেন, সাবিনার মাস্টার ডিগ্রির সব খরচ কলেজ বহন করবে। এছাড়াও তিনি নিজে অর্থসাহায্য করবেন। পাশাপাশি কলেজের ইতিহাসের শিক্ষকরাও পড়াশোনার ক্ষেত্রে সবরকমভাবে সাহায্য করবেন।

মাত্র দেড় বছর বয়সে বাবা মহম্মদ সরিফুদ্দিনকে হারিয়েছেন সাবিনা। আড়াই বছর বয়সে টাইফয়েডে দৃষ্টি একেবারেই হারিয়ে যায় তাঁর। দৃষ্টিশক্তি হারালেও ছোটোবেলা থেকে পড়াশোনায় ভীষণ মনোযোগী সাবিনা। এদিন সাবিনার মা হাসিনা বেওয়া জানান, তাঁর দুই ছেলে, দুই মেয়ে পরিবারে আর্থিক অনটন থাকলেও তাদের স্কুলে ভরতি করে দিয়েছিলেন। সাবিনা দেখতে না পারলেও শুনে শুনে পড়া মনে রাখতে পারে। ব্রেইলের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে পরীক্ষা দিয়েছে। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক স্তরের পরীক্ষায় রাইটার নিয়েছিল। সাবিনা জানান, বিডিও অফিস থেকে দেওয়া জিআরএ চাল, মানবিক প্রকল্পের ভাতার টাকা এবং দাদাদের দেওয়া সামান্য টাকায় টেনেটুনে সংসার চলে।

দেখতে না পারায় ক্লাসে শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে পড়াগুলি রেকর্ডিং করে দিতেন। সেই রেকর্ডিং শুনেই পড়া মুখস্থ করতে হত। এভাবেই মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে পাস করেছেন বলে জানান সাবিনা। কমার্স কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক সুব্রত দাস বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে সাবিনাকে সবরকম সাহায্য করা হবে। ওই ছাত্রীকে পৃথকভাবে লাইব্রেরিতে বসিয়ে পড়া বোঝানোর পাশাপাশি রেকর্ডিং করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সাবিনার বাড়ির আশপাশে কোনো ছাত্রছাত্রী থাকলে তাদেরকেও বলা হবে সাবিনাকে সাহায্য করতে। ইতিমধ্যে সাবিনাকে সিলেবাসের সমস্ত বই দিয়ে দেওয়া হয়েছে।