করোনার ধাক্কায় চাকরি খোয়ালেন শচীন

342

লুধিয়ানা : কোভিড-১৯, লকডাউনের কারণে লাখো মানুষ কাজ হারিয়েছেন। রেহাই পাননি শচীন তেন্ডুলকার-ও! মুম্বইয়ে বিখ্যাত গোলি বড়াপাও-এর ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন। কিন্তু লকডাউনে ব্যবসা মার খাওয়ার ফলে, ছাঁটাই শচীন! তবে ইনি মাস্টার ব্লাস্টার নন, শচীনের ডুপ্লিকেট বলবীর চাঁদ। পঞ্জাবের সাহলন গ্রামের বাসিন্দা। রাস্তাঘাটে হঠাৎ করে যাঁকে দেখলে তেন্ডুলকার বলে ভুল হয় অনেকের।

১৯৮৯। ১৬ বছর বয়সে শচীনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেক। বলবীর তখন নিজের গ্রামে। শচীনকে টিভিতে দেখে বন্ধুরা এসে বলে, তাঁকে নাকি মাস্টার ব্লাস্টারের মতো দেখতে। সেই থেকে ডুপ্লিকেট শচীন হয়ে ওঠা শুরু। ক্রিকেটের চেয়ে কাবাডি খেলতে ভালোবাসতেন বলবীর। কিন্তু শচীন-নামের জাদু অস্বীকার করা মুশকিল, আর চেহারায় হুবহু মিল যেখানে। নিজেকে আরও শচীনের মতো গড়ে তুলতে আধুনিক ডনের মতো হেয়ারস্টাইল করে নেন বলবীর। বলবীরের ডুপ্লিকেট শচীন হয়ে ওঠার অন্যতম কান্ডারি ছিলেন সুনীল গাভাসকারও। ১৯৯৯-এ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচে (কুম্বলের ১০ উইকেট নেওয়ার ম্যাচ) কমেন্ট্রি বক্সে বলবীরকে নিয়ে আসেন সানি। শচীনের ডুপ্লিকেট? টিভিতে মুখ- নিমেষে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তী বাইশ বছরে বলবীরের সবথেকে বড় ইউএসপি যা। শচীনের নকল- এই সুবাদে কাজও জুটে যায়। ক্রিকেট ভগবান-এর ডুপ্লিকেট হিসেবে টিভির বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে মুখ দেখিয়েছেন। এরপর মুম্বইয়ে ফাস্ট ফুড চেন শপে ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসাডরের চাকরি।

- Advertisement -

মুম্বইয়ে শহরতলি ভিখরোলিতে পরিবার নিয়ে থাকতে শুরু করেন। সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনা মহামারি হঠাত্ সব ওলটপালট করে দেয়। চাকরি খুইয়েছেন। লাখো পরিযায়ী শ্রমিকের মতো বেকার বলবীর বাধ্য হন পরিবার নিয়ে মুম্বই ছাড়তে। বলছিলেন, ওরা (গোলি বড়াপাও চেন শপ, যাদের ৯০টি শহরে ৩৫০ আউটলেট রয়েছে) লকডাউনের জন্য ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। অনেক কর্মীকে ছাড়িয়ে দিয়েছে। আমাকেও। জানিয়েছে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমাকে ডেকে নেবে। চাকরিই শুধু নয়, করোনা সংক্রামিতও হন বলবীর। ১০ জুন পঞ্জাবে নিজের গ্রাম সাহলনে ফেরেন। গ্রামে ফেরার পর করোনা পরীক্ষা। সেখানেই সংক্রমণ ধরা পড়ে বলবীর ও তাঁর পরিবারের। ১১ দিনের আইসোলেশন কাটিয়ে আপাতত সুস্থ বলবীর যা নিয়ে বলেন, সমস্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ফিরছিলাম। এন ৯৫ মাস্ক, ১৫ বোতল স্যানিটাইজার, যাতায়াতের রাস্তায় নিজেদের তৈরি খাবার খেয়েছি। কিন্তু সহযাত্রীদের অনেকেই কেয়ারলেস ছিল। ফল ভুগতে হয়েছে আমাদের।

একদা এমআরএফ, তোশিবা, রেনল্ডস, টিভিএসের মতো নামীদামি সংস্থার বিজ্ঞাপনে শচীনের ডাবল-এর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বলবীরকে। বলিউডের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডাও গিয়েছেন। বলবীরকে রাজনৈতিক প্রচারেও কাজে লাগিয়েছে বিভিন্ন দল। হাসপাতালে কাজ করা দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া বলবীরের জীবন বদলে যায় ১৯৯৯-এ। তাঁর কথায়, কমেন্ট্রি বক্সের ঘটনার পর তাজ হোটেলে নিয়ে গিয়ে আমাকে শচীনের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়া হয়। ৬টি ছবিতে অটোগ্রাফ দিতে বলি শচীনকে। অটোগ্রাফ দেওয়ার সময় বলি, এগুলি আপনার নয়, আমার ছবি। বেশ অবাক হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে আমাকে দেখে হাসেন। পরে টিম বাসে যাওয়ার সময় তিনি আমার কাছে বেশ কয়েকটি ছবি চান। ছয়টির মধ্যে আমি পাঁচটি শচীনকে দিয়েছিলাম, কঠিন সময়ে সুখের স্মৃতি রোমন্থন বলবীরের।

শচীনের ডুপ্লিকেট যদিও ভেঙে পড়তে নারাজ। তিনি আশাবাদী, মেঘ কেটে যাবে। বছর পঞ্চাশের বলবীর চাঁদ বলেন, অর্থ সেভাবে না পেলেও শচীনের মতো মুখ আমাকে জনপ্রিয়তা দিয়েছে। আমি নিজে লিখতে পারি। গানে সুরও দিই। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে চাই। আমি আশাবাদী লোকে শুধু আমার চেহারা দেখবে না, দক্ষতাকেও মর্যাদা দেবে।