পাহাড়ে জাফরান ফলিয়ে তাক লাগানোর স্বপ্ন রাজ্যের 

1614

জ্যোতি সরকার জলপাইগুড়ি : শক্তিবর্ধন, বাতের ব্যথা থেকে সন্তানহীনতার মতো নানা অসুখের ওষুধের পাশাপাশি বিরিয়ানির দুর্দান্ত সুবাস, কেশর বা জাফরানের গতিবিধি সর্বত্র। ধরাছোঁয়া সাধারণের আয়ত্তের অনেকটাই বাইরে। দাম কেজি প্রতি প্রায় তিন লক্ষ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক গ্রামের দাম পড়ে যায় ৩০০ টাকা। তবুও একে ঘিরে আমাদের চাহিদার শেষ নেই। বহুমূল্য এই জাফরান আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েছিটিয়ে কিছুটা চাষ হলেও দারুণ গুণমানসম্পন্ন উৎপাদনের ক্ষেত্রে কাশ্মীরের পাহাড়ি গ্রাম পম্পোরের নামই সবার আগে। দেশজুড়ে যে সমস্ত জায়গায় জাফরানের চাষ হয় সম্প্রতি তাতে সিকিমও নাম লিখিয়েছে। এবারে পশ্চিমবঙ্গেও এই চাষ শুরু হল। কাশ্মীর থেকে বীজ এনে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে সিঙ্কোনা চাষের জমি সংলগ্ন এলাকার পাশে উঁচু ফাঁকা জমিতে জাফরানের চাষ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি, পাহাড়ে ফের কুইনাইন ট্যাবলেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেখা দেওয়ার পর বর্তমানে ইরান ও স্পেনে জাফরান উৎপাদন হয়। লিলি প্রজাতিভুক্ত ভেষজ জাফরান উৎপাদনের সূত্রে দেশজুড়ে কাশ্মীরের পম্পোরের দারুণ সুনাম। সম্প্রতি জাফরান চাষে সিকিম নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। দক্ষিণ সিকিমের ইয়াংগনে সিকিম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে কেশর চাষ শুরু হয়েছে। এবারে পশ্চিমবঙ্গেও জাফরান চাষ শুরু করা হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে সিঙ্কোনা চাষের জমির পাশে এই চাষ শুরু করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাঁচ একর জমিতে এই চাষ হচ্ছে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ডঃ সুব্রত গুপ্ত বলেন, দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে জাফরান চাষে সাফল্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য রাজ্য সরকারের হর্টিকালচার দপ্তর এখানে এই উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে, পাহাড়ে ফের সিঙ্কোনার ছাল থেকে কুইনাইন ট্যাবলেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের মধ্যে দার্জিলিং ও কালিম্পং ছাড়া অন্য কোথাও সিঙ্কোনার চাষ হয় না। সুব্রতবাবু বলেন, ইংরেজ আমলে পাহাড়ে যে কুইনাইন ট্যাবলেট তৈরির কারখানা ছিল সেটি ভেঙে পড়েছে। ১৯৮০ সালে একটি নতুন কারখানা তৈরি হলেও তা থেকে ট্যাবলেট তৈরির কাজ করা হয়নি। বর্তমানে বরোদার একটি বাণিজ্যিক সংস্থা পাহাড় থেকে সিঙ্কোনার ছাল কিনে নিচ্ছে। পাহাড়ে ফের কুইনাইন ট্যাবলেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে কুইনাইন ট্যাবলেট তৈরি করা হলে অনেক বেশি রোজগার হবে। সেদিকে তাকিয়ে রাজ্য সরকার দার্জিলিংয়ে একজন কুইনোলজিস্টকে নিযোগ করেছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব জানান, পাহাড়ে রাবার চাষের আরও প্রসার ঘটানো হবে। কালিম্পং ও দার্জিলিংয়ে ভেষজ নার্সারি তৈরির পাশাপাশি ফল চাষের আরও প্রসার ঘটানো হবে।

- Advertisement -