এমএ ডিগ্রি লুকিয়ে সবজি বিক্রি করছেন আমগুড়ির সাগর

231

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : যে কোনও নির্বাচনের আগেই বেকার যুবক-যুবতীদের কাছে টানতে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া একটা প্রচলিত বিষয়। কিন্তু ভোট শেষে কর্মসংস্থান বিষয়টা কত গুরুত্ব পায় তা সেটা সাগর বিশ্বাসদের মতো মাস্টার ডিগ্রিধারী যুবক-যুবতীদের কথা শুনলে পরিষ্কার বোঝা যায়।

ইতিহাসে এমএ করে ইচ্ছা ছিল সরকারি চাকরি করবেন। শত চেষ্টা করার পরেও হয়নি। এদিকে, বিয়ে করার পরে সংসারে আর্থিক অনটন। বাবা-মার মুখে অন্ন তুলে দিতে এমএর ডিগ্রি লুকিয়ে রেখে এখন জলপাইগুড়ির বয়েলখানা বাজারের রাস্তার পাশে সবজি বিক্রি করছেন সাগর বিশ্বাস। ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি এলাকার বাসিন্দা সাগর। বাবা সামান্য কৃষক। তাই ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল, ভালো করে পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি করবেন। অর্থ না থাকলে ডিগ্রি নিয়ে যে কিছু হয় না তা এদিন ক্রেতাদের সবজি বিক্রি করতে করতেই জানালেন সাগরবাবু। ময়নাগুড়ি সুভাষনগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে পরে ধূপগুড়ি সুকান্ত মহাবিদ্যালয়ের কলা বিভাগ থেকে ভালো নম্বর পরে মেদিনীপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ করেন সাগর। এরপর বিভিন্ন জায়গায় সরকারি চাকরির ইন্টারভিউ, এসএসসি, পিএসসি দিয়ে চাকরি হয়নি।

- Advertisement -

সাগর বলেন, প্রতিদিন ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ময়নাগুড়ি সুপার মার্কেট থেকে সবজি নিয়ে টোটো করে ২০-২৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ঠিক সকাল আটটা নাগাদ বয়েলখানা বাজারে এসে দোকান খোলেন। সারাদিন দোকান করার পরে কোনওদিন লাভ হয়, কোনওদিন হয় কিছুই থাকে না। এখনও কি পড়াশোনা করেন? এই প্রশ্নে কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়ে উত্তর দেন, কি হয়েছে বড় ডিগ্রি নিয়ে চাকরি তো হয়নি। আসলে এখন মেধার কোনও দাম নেই। টাকা নেই চাকরি নেই। আমার মতো আরও অনেক যুবক-যুবতী আছেন, যাঁদের একই অবস্থা।

কোথাও কিছু না পেয়ে শেষে বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে সংসার চালাতে আলুর ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ভালোই চলছিল। তখনই বিয়ে করেন। হঠাত্ করে আলুর ব্যবসায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। আর্থিক অনটনের জেরে স্ত্রীও ছেড়ে চলে যান। শিলিগুড়ির একটি রং কারখানায় শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেটাও কপালে টেকেনি সাগরের। সংসার চালাতে শেষে বাজারে সবজি দোকান দেন।

সাগর বলেন, বিয়ে পরে স্ত্রী-কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং ডিএলএড  করিয়েছি। এই আশায় যে, দুজনে মিলে সংসার চালাব। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, স্ত্রী ছেড়ে চলে গেল। আর ডিগ্রি থাকার পরেও চাকরি নেই। আজ বাজারে সবজি বিক্রি করে সামান্য আয়ে চলতে হচ্ছে। এটাই আক্ষেপ।