সাগর দত্ত হাসপাতালে করোনার পাশাপাশি অন্য রোগের চিকিৎসা চলবে

241

ব্যারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমার সাগর দত্ত হাসপাতালে করোনার সঙ্গে অন্য রোগের চিকিৎসা চলবে। শনিবার হাসপাতালের ২০০ শয্যার মধ্যে ৫০ শয্যায় আপাতত করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসা করা হবে বলে ঠিক হয়।

উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমার সাগর দত্ত হাসপাতাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু ব্যারাকপুরে নয় হুগলির বেশ কিছু জায়গা থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসে থাকেন। সম্প্রতি, রাজ্য সরকার ওই হাসপাতালটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ করোনা চিকিৎসার হাসপাতলে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমে পড়েন হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তাররা। অবশেষে বিক্ষোভকারী জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে শনিবার ঠিক হয় হাসপাতালের ২০০ শয্যার মধ্যে ৫০ শয্যায় আপাতত করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসা করা হবে। বাকি শয্যাগুলিতে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা যেমন চলছিল তেমনি চলবে। তবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা যে শয্যায় করা হবে সেগুলিকে আলাদাভাবে রাখা হবে। যাতে তার থেকে অন্য কারও সংক্রমণ না ছড়াতে পারে।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, ওই হাসপাতালকে পুরোপুরি করোনা হাসপাতালে পরিণত করার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জুনিয়র ডাক্তাররা বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, যেহেতু বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে এসে থাকেন। তাই সেই হাসপাতালকে পুরোপুরিভাবে কোভিড হাসপাতালে পরিণত করা হলে তাঁরা সেখানে চিকিৎসা করাতে পারবেন না। তাঁদের ছুটতে হবে উত্তর কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে। ফলে রোগী ও তাঁদের পরিজনরা চরম হয়রানির সম্মুখীন হবেন। শুধু তাই নয় সেই সঙ্গে ওই হাসপাতালে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসা করার প্রশিক্ষণ পাওয়া থেকে ব্যর্থ হবেন।

গতকাল বিকেল থেকে জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন। তাতে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকট দেখা দেয়। অবশেষে রাত ১১টা নাগাদ হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট বিক্ষোভকারী জুনিয়র ডাক্তারদের আশ্বাস দেন যে আজ দুপুরে রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা নিজেই আসবেন তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে। আর সেই আশ্বাস পাওয়ার পরই জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেন।

এদিন হাসপাতালে হাজির হন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ডাক্তার শান্তনু সেন। তিনি সেখানে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তিনি হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করে জানান, জুনিয়র ডাক্তারদের পরামর্শমতো ওই হাসপাতালের ৫০ শয্যায় করোনা সংক্রামিতদের আলাদাভাবে চিকিৎসা করা হবে। আর বাকি অংশে অন্যান্য চিকিৎসার কাজ ওই হাসপাতালে যেমন চলছে তেমনই চলবে। পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার সঙ্গে আলোচনার পর ওই কথাই জানিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।