নেশাখোরদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে সাহাপুর

রাজশ্রী প্রসাদ, পুরাতন মালদা : পুরাতন মালদার সাহাপুর এখন নেশাখোরদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। এলাকার আমবাগান, ঝোপঝাড়, বাইপাস সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় দিনরাত বসছে নেশার ঠেক। অভিযোগ উঠছে, সব দেখেশুনেও নীরব পুলিশ। নেশাখোরদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাহাপুরের বাসিন্দারা। এলাকাবাসী চাইছেন, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক।

৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে নবনির্মিত বাইপাস সবে আংশিকভাবে চালু হয়েছে। পুরাতন মালদার একাধিক জায়গায় ছোটো রাস্তার শাখা প্রশাখা এসে মিলেছে এই বাইপাসে। এই সব ছোটো ছোটো রাস্তার পাশে ঝোপঝাড়ের বাড়বাড়ন্ত। কোথাও ভাটফুল, কোথাও ফনিমনসা, আবার কোথাও বা আগাছার ঝোপ। শীতের উত্তুরে হাওয়া ছুঁয়ে যাচ্ছে ঝোপের ডালপাতা। সেদিকে একঝলক তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়। তবে ভালো করে ঠাহর করলে ধরা পড়বে অন্য ছবি। কখনও কখনও অস্বাভাবিক দুলে ওঠে ঝোপঝাড়। কুকুর, শেয়াল ভেবে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেন না। ভুল ভাঙে তখন যখন ঝোপের ভেতর থেকে হঠাৎ হঠাৎ ধোঁয়ার কুণ্ডলি পাকিয়ে উঠেই মিলিয়ে যায় বাতাসে।

- Advertisement -

নাকে সেই ধোঁয়া ঠেকলে বোঝা যায়, চরস, গাঁজা, আফিমের উপস্থিতি। পুরাতন মালদার বিভিন্ন ঝোপজঙ্গল এখন নেশাখোরদের ঠিকানা। তেমনই একটি ঠিকানা সাহাপুর এলাকা। সাহাপুর ডিস্কো মোড় থেকে একটি রাস্তা সরাসরি নবনির্মিত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাসে মিলেছে। সেই রাস্তার দুপাশেই রয়েছে বড় বড় আমবাগান ও আগাছার জঙ্গল। কোথাও কোথাও সেই সব জঙ্গল আট দশ ফুট সমান উঁচু। বাইরে থেকে কিছু ঠাহর করা মুশকিল। বাইপাসগামী ছোটো রাস্তা থেকে সহজেই নজরে আসে সেই জঙ্গল। রাস্তা দিয়ে দিনভর মানুষের যাতায়াত। এমনকি সারাদিন ওই রাস্তা দিয়ে যায় পুলিশের টহলদারি ভ্যানও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসবের মধ্যেই আমবাগান ও ঝোপজঙ্গলে রমরমিয়ে চলে মাদকের কারবার। ঝোপঝাড়ের ভেতরে পরিপাটি করে সাজানো থাকে নেশার আসর। ঝোপের ভেতরের কয়েক বর্গফুট জায়গা পরিষ্কার করে রাখা থাকে। সেখানেই মাদুর বা চট বিছিয়ে বসে নেশার আসর। শুধু অন্ধকারেই নয়, দিনের আলোতেও সেখানে চলে মারণ নেশার কারবার। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বেহুঁশ হয়ে সেখানে কাটিয়ে দিতে পারে নেশাখোররা। ওই এলাকায় নেশাখোরদের দৌরাত্ম্য লাগামছাড়া হয়ে উঠলেও পুলিশ-প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আমবাগান ও ঝোপঝাড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকের ঠেক বসে। মাদকের কারবারিদের পাশাপাশি নেশার টানে হাজির হয় অনেকেই। এর মধ্যে যেমন বহিরাগতরা রয়েছে, তেমনই রয়েছে স্থানীয় যুবক, এমনকি স্কুলপড়ুয়ারাও। নেশার টাকা জোগাড় করতে সেই সব কিশোর-যুবকরা সমাজবিরোধী দুষ্কর্মে জড়িয়ে পড়ছে। সাহাপুর ও বাইপাসে একাধিক ছিনতাই ও রাহাজানির ঘটনায় পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সাহাপুর এলাকার যুবক ও স্কুলপড়ুয়া। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে দুষ্কর্মে লিপ্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। নেশাখোরদের দৌরাত্ম্যে সন্ধের পর মেয়ে-বৌদের রাস্তায় বেরোনো মুশকিল। এমনকি দিনেদুপুরেও পথেঘাটে নেশাশক্তদের দৌরাত্ম্য দেখা যায় বলে অভিযোগ।

সুদাম কুণ্ডু নামে সাহাপুরের এক বাসিন্দা জানান, সাহাপুর এলাকার নেশাখোরদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। মদ, গাঁজা, চরস, হেরোইন, কফ সিরাপ সহ নানারকম মারণ নেশার টানে নেশাখোররা ভিড় জমায় এখানে। পুলিশ সব দেখেশুনেও নীরব। আমরা চাই, পুলিশ কঠোর হাতে এসব দমন করুক। নেশাখোরদের জন্য এলাকায় চুরি বেড়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। অভিযোগ, রাস্তা থেকে নেশার ঠেকগুলি নজরে এলেও পুলিশ একবারের জন্যও হানা দেয় না সেই সব ঠেকে।

পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সাহাপুর এলাকার প্রতিনিধি সুশান্ত কুণ্ডুর অভিযোগ, সাহাপুরে মাদকের কারবার ও নেশাখোরদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। অথচ পুলিশ সব দেখেশুনেও কিছু করছে না। তাহলে কি এর পেছনে অন্য কোনও সমীকরণ রয়েছে? সাহাপুর এলাকাটি দুষ্কৃতী ও নেশাখোরদের আখড়া হয়ে উঠেছে। বাসিন্দারা এখানে থাকতে পারছেন না। নানারকম অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে চলেছে। আমরা চাই, পুলিশ সক্রিয়ভাবে এগুলি দমন করুক। যদিও পুলিশের তরফে কোনওরকম পদক্ষেপ নজরে আসেনি এখনও।