স্পেশাল ট্রেনে অসম যেতে হল বীরভূমের সাহেবকে

হরষিত সিংহ, মালদা : পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে বিশেষ ট্রেন চালু করেছে ভারতীয় রেল। মঙ্গলবার দুপুরে ও বিকেলে দুটি বিশেষ ট্রেন মালদায় শ্রমিকদের নিয়ে পৌঁছায়। দেড় মাসেরও বেশি সময় বাদে মালদা টাউন স্টেশনে যাত্রীবোঝাই ট্রেন থামলেও নামতে পারলেন না কোনও যাত্রী। মালদা ডিভিশনের তরফে যাত্রীদের খাবার ও জল দেওয়া হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিটি কোচ থেকে এক-দুইজন করে যাত্রী নেমে খাবার তুলে নেন ট্রেনে। নিজেদের মধ্যে খাবার ভাগ করে নেন যাত্রীরা। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেন দুটি চেন্নাই থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত যাবে। পথে কোনও স্টেশনে যাত্রীরা ওঠা-নামা করতে পারবেন না। সেই নির্দেশিকা মেনেই চলছে ট্রেনগুলি। মালদা স্টেশনে গুয়াহাটিগামী ট্রেন দুটির পাসিং ছিল। তাই এখানে দুটি ট্রেনেই দাঁড়ায়। কোনও যাত্রী যাতে ট্রেন থেকে নামতে না পারে তার জন্য এদিন মালদা টাউন স্টেশনে জিআরপি ও আরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছিল।

এদিকে, গুয়াহাটিগামী ট্রেনটিতে উঠে পড়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা শেখ সাহেব। বীরভূমের বোলপুর স্টেশনের ওপর দিয়ে ট্রেনটি আসলেও তাকে সেখানে নামতে দেওয়া হয়নি। মালদা স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছালে কর্মরত রেল পুলিশ আধিকারিকদের কাছে নামার জন্য আবেদন জানান ওই পরিযায়ী শ্রমিক। রেল পুলিশকর্তারা তাঁকে জানিয়ে দেন এখানে নামা যাবে না। যেখানে ট্রেনের গন্তব্য সবার সঙ্গে তাঁকে সেখানেই নামতে হবে। ট্রেনের কামরায় বসে চিন্তায় পড়ে যান বীরভূমের ওই বাসিন্দা। শেখ সাহেব জানান, চেন্নাইয়ে অনুসন্ধান কেন্দ্রে তাঁকে জানানো হয় ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গে যাবে। তাঁদের কথা শুনে তিনি ট্রেনে উঠে পড়েন। কিন্তু বোলপুর স্টেশনে তঁাকে নামানো হয়নি। বোলপুর স্টেশনে জানানো হয় মালদায় নামানো হবে। সেখানে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে। তারপর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু মালদা টাউন স্টেশনেও নামতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে বাড়ির বদলে অসমে যাচ্ছেন তিনি।

- Advertisement -

মালদা টাউন স্টেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মোট দুটি যাত্রীবোঝাই স্পেশাল ট্রেন মালদায় পৌঁছায়। মালদায় ট্রেনের লোকো পাইলট, গার্ড ও অন্য কর্মী পরিবর্তন হয়। এদিন প্রথম ট্রেনটিতে প্রায় ১১০০ যাত্রী ছিলেন। অধিকাংশ অসমের বাসিন্দা। বাকিরা অসমের পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির বাসিন্দা। ডিআরএম (মালদা) যতীন্দ্র কুমার জানান, মালদা স্টেশনের ওপর দিয়ে দুটি বিশেষ ট্রেন পাশ করে। আমরা রেলের তরফে যাত্রীদের জন্য কিছু খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছিলাম। তবে মালদায় কোনও যাত্রী নামেননি বা ওঠেননি।