কুলটি কারখানার আধুনিকীকরণে বিপুল বিনিয়োগ করবে সেইল

76

আসানসোল: আগামী ১০ বছরের মধ্যে মোট দুই পর্যায়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া(সেইল) কুলটি গ্রোথ কারখানায়। আধুনিকীকরণের মাধ্যমে এই বিনিয়োগের ফলে প্রায় ২০০০ জনের নতুন করে কর্মসংস্থান হবে। স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়ান এনভায়রনমেন্ট ডিভিশনের সারাদেশের দায়িত্বে থাকা এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুভাষ দাস কুলটি গ্রোথ ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর পদেরও দায়িত্ব এক সপ্তাহ আগে নিয়েছেন। সেই দায়িত্ব নেওয়ার পরে সুভাষ দাস এদিন কুলটি কারখানার প্রতিটি বিভাগ ঘুরে ঘুরে দেখেন ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি জানান, কুলটি কারখানা দেশের অন্যতম প্রাচীন কারখানা। এই কারখানাটি ২০০৩ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৮ সালে এই কারখানাটিকে সেইলের গ্রোথ ডিভিশনের আওতায় এনে তা আবার চালু করা হয়। গত বছর এই কারখানায় প্রায় ৭৫ কোটি টাকার উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছরেই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১০০  কোটি রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই কারখানায় প্রায় ৫০০ কর্মী আছেন। তিনি আরও বলেন,  আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রথম পর্যায়ে ১.৫ মিলিয়ন টনের একটি ফার্নেস এখানে বসানো হবে। যার সাহায্য কার্বন নির্গমন কমিয়ে মিড্রেস পদ্ধতিতে ইস্পাত তৈরি করা হবে। সেক্ষেত্রে এখানে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও কুলটি কারখানায় দেশের মধ্যে প্রথম বিশেষ ধরণের বার তৈরি করা হবে। তা দিয়ে বিয়ারিং ক্র্যাংক শ্যাফট তৈরি করতে সুবিধা হবে। ০.৬৫ মিলিয়ন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিশেষ বার তৈরির ফার্নেস বসানো হবে। এই সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১.৬ বৈদ্যুতিক আগ ফার্নেস, ১.২ মিলিওনের বিলেট মিল ও ১.৩  মিলিয়নের ব্লুমিং মিল বসানো হবে।

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘আগামী এক দশকের মধ্যে কুলটি কারখানা দেশের অন্যতম সেরা আধুনিক ইস্পাত কারখানার রূপ নেবে। বর্তমানে বার্ণপুর ইস্কোর ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা যা আছে তা আগামী দশ বছরে বাড়িয়ে ১৭ মিলিয়ন টনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কুলটিতে একসময় খেলা ও সংস্কৃতির শুধু রাজ্য নয় সারা দেশের অন্যতম পীঠস্থান ছিল। তাই এই কারখানার পাশাপাশি একইসঙ্গে ফিরিয়ে কুলটির খেলা ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো পুনর্জীবনের চেষ্টা করব।’

সম্প্রতি ইস্কো কারখানায় দুই কর্মীর গ্যাসে মৃত্যু হয়েছে। তার আগেই রাউরকেল্লায় চারজন মারা যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দুর্ঘটনায় সর্বভারতীয় স্তরে কমিটি করি। রাউরকেল্লা ক্ষেত্রেও সেটা করে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। বার্ণপুরের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চয়ই হবে। তাদের সুপারিশগুলি কার্যকর করা হচ্ছে কিনা তা দেখা হবে। এই কারণে আগামী দিনে কুলটি কারখানায় যে ফার্নেস বসানো হবে। তাতে কার্বন মনোক্সাইডের ব্যবহার কমিয়ে ফেলার ভাবনা চিন্তা করা হয়েছে। কুলটিতে প্রায় দুই হাজারের বেশি আবাসন অবৈধভাবে দখল হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে অবশ্যই এটা নিয়ে ভাবা হবে। কুলটি এলাকায় কারখানা বন্ধের পর মূল্যবান যে প্রচুর গাছ কাটা হয়েছে তা যাতে ভবিষ্যতে না হয় সেদিকেও তিনি প্রথম দিনই নজর দেবেন বলে জানিয়েছেন। নতুন করে বেশ কিছু গাছ লাগানোর আশ্বাস দেন কারখানার নতুন এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর।’