প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে আসানসোলে সায়নী ঘোষ

151

আসানসোল: নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তাকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে শাসকদলের একাংশ কর্মী ও নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আবার রাস্তাতেও নেমেছেন। তারইমধ্যে রবিবার আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে প্রথমবার আসানসোলে এলে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তারকা মুখ সায়নী ঘোষ। প্রথমেই তিনি দূর্গাপুরে দলের জেলা সভাপতি অপূর্ব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। দলের নতুন প্রার্থী সায়নী ঘোষের সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্য এদিন আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বার্নপুরের প্রান্তিক ক্লাবে এক কর্মীসম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভামঞ্চে সায়নী ঘোষ বলেন, ‘অবশ্যই ময়দানে খেলা হবে।’

সায়নীর সঙ্গে ছিলেন আসানসোল উত্তর বিধানসভার পদপ্রার্থী তথা দলের জেলা চেয়ারম্যান মলয় ঘটক। কর্মী সম্মেলনের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় পর্ব হয়। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে নিজের গাড়িতে চাপার পরে সাংবাদিকদরা সায়নী ঘোষের কাছে জানতে চান দলের একাংশই এখানে তাকে বহিরাগত বলছে? তাঁর উত্তরে তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় এই রকম হচ্ছে। তবে বাংলার মেয়েকে কিভাবে বাড়ির মেয়ে করে নিতে হয় সেটা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও প্রার্থীরা ভালই জানেন।’

- Advertisement -

পরে এদিন বিকালে আসানসোলের জিটি রোডে দলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সায়নী ঘোষ। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ও রানিগঞ্জের প্রার্থী তাপস বন্দোপাধ্যায়। সায়নী ঘোষ বলেন, ‘আমি এখানে তারকা হিসাবে আসিনি। দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে এসেছি। মমতা বন্দোপাধ্যায় আমার উপর ভরসা রেখেছেন। আসানসোলের মানুষ যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে আমি এখানে থেকে কাজ করব।’

নাম না করে দলবদল করে অন্য দলে চলে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে থেকে যারা চলে গেছেন, ‘তাদের সময় বলবে। উপরে ঈশ্বর আছেন। তিনি দেখছেন। তারসঙ্গে তো জনগন আছেন। তাঁরাও জবাব দেবেন।’

ক্ষোভ ও বিরোধিতা প্রসঙ্গে তাঁর জবাব, ‘মান অভিমান আছে ও থাকবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাও চলে যাবে। দিনের শেষে সবাই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে চলে আসবেন।’

আসানসোল দক্ষিণ বিধাসভা কেন্দ্রে তাপস বন্দোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে সায়নীর জবাব, ‘তিনি অনেক কাজ করেছেন। আশা করি, তাঁর সম্মান রাখতে পারব।’ ওয়েব সিরিজ খ্যাত এই অভিনেত্রী কেন্দ্রের শাসকদলকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বাংলাকে উত্তরপ্রদেশ হতে দেব না। বিজেপি শাসিত অন্য রাজ্যগুলিতে কি হচ্ছে দেখে আসুন। ঐসব রাজ্যগুলোয় কোন আইনশৃঙ্খলা নেই। নারীদের কোন নিরাপত্তা নেই। ধর্ষণ ঐ রাজ্যগুলির নিত্যদিনের ঘটনা।’