সাজুর ‘স্বর্গ’ থেকে  মিলছে অক্সিজেন, খাবারও

126

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: করোনাকালে ফের সদয় ‘স্বর্গ’! বিপদের দিনে সেখান থেকে মিলছে অক্সিজেন। মিলছে খাবারও। মঙ্গলবার বীরপাড়া এলাকার ৫০ জন ভবঘুরের হাতে হেভেন শেল্টার হোম অর্থাৎ স্বর্গের তরফে খাবার তুলে দেওয়া হয়। মেনুতে ছিল ভাত এবং ডিমের ঝোল।

ভবঘুরেদের আশ্রয় দিতেই হেভেন(স্বর্গ) শেল্টার হোম গড়ে তোলেন আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া সংলগ্ন ডিমডিমা হাটখোলার বাসিন্দা সাজু তালুকদার। তাঁর আশ্রয় গৃহে এখন রয়েছেন ১৮ জন আবাসিক। কিন্তু পথে ঘাটে তো অনেক ভবঘুরে এখনও পড়ে রয়েছে! কার্যত লকডাউন শুরু হতেই তাই একপ্রকার অনাহারেই থাকতে হচ্ছে পথে ঘাটে পড়ে থাকা ভবঘুরেদের। তাদের কথা চিন্তা করেই খাবারের ঝুলি নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ল স্বর্গের প্রতিনিধিরা।

- Advertisement -

একসময় পেশায় গাড়িচালক সাজু তালুকদার সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন, চালু করেন বস্ত্র ব্যাংক। দরিদ্রদের সারাবছর জামা-কাপড় দেওয়া হয় সেখান থেকে। অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকার ভবঘুরে, আশ্রয়হীনদের জন্য তৈরি করেন আশ্রয় গৃহ। সাধারণ মানুষের দানে আবাসিকদের দু’বেলা আহার জুটছে সেখানে। মঙ্গলবার ওই আবাসিকদের বরাদ্দ থেকেই ভবঘুরেদের পেট ভরানোর বন্দোবস্ত করা হয়। গত ৫ মে সাজুবাবু অক্সিজেন ও মাস্ক ব্যাংকও চালু করেছেন সাধারণ মানুষের সহযোগিতায়। প্রথমে তিনটি সিলিন্ডার ও ২ হাজার মাস্ক নিয়ে শুরু হয় ওই ব্যাংক। পরে অক্সিজেন ব্যাংকে আরও একটি সিলিন্ডার যোগ হয় মালদার এক সমাজসেবীর সৌজন্যে। বুধবার হেভেন আশ্রয় গৃহের মাধ্যমে ওই সমাজসেবী ১০০ জনের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেবেন বলে জানান সাজু তালুকদার।

সাজুবাবু বলেন, ‘দোকানপাট, হোটেল বন্ধ। ভবঘুরেদের একপ্রকার অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। আশ্রয় গৃহের আবাসিকদের দু’বেলা আহার জুটলেও পথে ঘাটে পড়ে থাকা অভুক্ত লোকগুলির হাতে কিভাবে অন্ন তুলে দেব তা ভেবে পাচ্ছি না।’