সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতে সঞ্চালক অপসারণের সিদ্ধান্ত অবৈধ, ঘোষণা হাইকোর্টের

256

মুরতুজ আলম, সামসী: রতুয়া-১ ব্লকের সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের গত ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সঞ্চালক অপসারণের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ অপসারণের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। ব্লক প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তটি খারিজ করে নতুন করে আগামী ২১ জানুয়ারি পুনরায় মিটিং ডাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিকে আদালতের রায় ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সামসীতে। থমকে গিয়েছে পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজ।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০টি আসনের মধ্যে ১২টি দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি আটটি আসনের পাঁচটিতে কংগ্রেস ও তিনটিতে বিজেপি জয়লাভ করে। পঞ্চায়েত সমিতির তিনজন সদস্য তৃণমূলের হওয়ায় তাঁরা ওই পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির সদস্য। বিজেপির একজন সদস্য মারা যাওয়ায় তাঁদের সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে দুই। কিন্তু সামসী অঞ্চলের প্রধান শ্রবনকুমার দাস স্বজনপোষণ ও নিজের মর্জিমাফিক বোর্ড পরিচালনা করার জন্য কংগ্রেসের দলনেত্রী সহ বিজেপির দুই সদস্যের সহায়তায় বিডিওর কাছে তাঁর নিজের দলের চারজন সঞ্চালকের বিরুদ্ধে গত ২৩ নভেম্বর অনাস্থা জ্ঞাপন করে বলে বিরোধী পক্ষের অভিযোগ। যদিও প্রধান শ্রবনকুমার দাস নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়ম মেনেই অনাস্থা ডাকা হয়েছিল। কে কি বলল তাতে কিছুই যায় আসেনা।’ সেই মোতাবেক ১৪ ডিসেম্বর পঞ্চায়েতে তলবি সভা ছিল। অভিযোগ, ওইদিন প্রিসাইডিং অফিসার নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ সকাল ১১ টার সময় আসার কথা থাকলেও পঞ্চায়েতে এসে পৌঁছান বিকেল সাড়ে তিনটার পর। অর্থাৎ তলবি সভার শেষ সময় ছিল সাড়ে তিনটা। কিন্তু সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তলবি সভা শুরু হয় বিকেল চারটে নাগাদ। কিন্তু প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনে তলবি সভা শুরু না হওয়ায় সেই সভাটি বানচালের দাবি জানিয়েছিলেন নব কুমার মণ্ডলরা। সামসী পঞ্চায়েতে চারজন তৃণমূলের সঞ্চালক সরিয়ে নতুন উপসমিতি গঠনের বিষয়টি শেষমেষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

- Advertisement -

এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারীদের তরফে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য তথা সঞ্চালক নবকুমার মণ্ডল। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর তৃণমূলের চারজন সঞ্চালককে সরানোর জন্য অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। কিন্তু প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনে সভা শুরু না হওয়ায় সেই সভাটি বানচালের দাবি জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, সভা শুরুর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার অনেক পরে প্রিসাইডিং অফিসার পঞ্চায়েতে এসে হাজির হন। যদিও নবকুমারদের অভিযোগ, প্রিসাইডিং অফিসার বদলের বিষয়টি চার তৃণমূলী সদস্যদের জানানো হয়নি। এই বিষয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর মালদার জেলাশাসককেও তারা লিখিত অভিযোগ করেন। যদিও প্রশাসন তাদের অভিযোগকে পাত্তা না দিয়ে ১৪ ডিসেম্বরের সভায় সিলমোহর লাগানোর পরে ১১ জানুয়ারি উপসমিতি গঠন করে।

ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, সরকারি প্রতিনিধি হিসাবে অনয় হাজরা নামক যে প্রশাসনিক কর্তাকে সেই বৈঠকে পাঠানো হয়েছিল রাস্তা বন্ধের কারণে তিনি সময়মতো সেখানে হাজির হতে পারেননি। ফলে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিকেল ৩টা নাগাদ অন্য এক আধিকারিককে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর তলবি সভা শুরু হয় নতুন করে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগের কারণে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেন অপসারিত চার সঞ্চালক। এই মামলাটি বিচারপতির এজলাস উঠে গতকাল অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি। বিচারক সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে আগামী ২১ জানুয়ারি পুনরায় পঞ্চায়েতের উপসমিতি গঠনের জন্য তলবি সভা ডাকার নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছে প্রশাসন।

রতুয়া-১ এর বিডিও সারওয়ার আলি জানান, প্রিসাইডিং অফিসার বদলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনি জানিয়েছিলেন। সামসীর প্রধান অভিযোগকারীদের কেন বিষয়টি জানাননি সেটি তিনিই ভাল বলতে পারবেন। তবে আদালতের নির্দেশ মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রবণকুমার দাস জানান, পঞ্চায়েতের মোট ২২ সদস্যের মধ্যে ১৩ জন সদস্য ৪ সঞ্চালকের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। এই বিষয়ে পঞ্চায়েতের তরফে যে রেজুলেশন নেওয়া হয়েছিল তা পঞ্চায়েতের পক্ষে আদালতকে জানান পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি আনিসুর রহমান। নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তিনি হতাশ। তবে এই রায় নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।