মেলোডি ক্লাবের পুজোর উদ্যোক্তা সপ্তম শ্রেণির সানাই

- Advertisement -

অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ : পুজো তো অনেক রকমের হয়। বারোয়ারি পুজো, বনেদি বাড়ির পুজো, ঐতিহাসিক পুজো। প্রতিবছরই নানারকম পুজোর আয়োজন দেখা যায়। কিন্তু এই পুজো একেবারে অন্য রকমের। এই পুজোর উদ্যোক্তার নাম সানাই ওরফে সমুদ্রনীল সাহা। বয়স ১২। হ্যাঁ, মাত্র ১২ বছর বয়সেই সে বানিয়ে ফেলেছে আস্ত একটা ক্লাব। তার তৈরি মেলোডি ক্লাবের পুজো এবার ছ বছরে পড়ল। একইসঙ্গে সে-ই এই পুজোর প্রতিমাশিল্পী। পুরোহিতের দ্বায়িত্বও সামলাতে হয় তাকেই।

ছবছর বয়সে আটা দিয়ে দুর্গা প্রতিমা গড়ে সানাইয়ে প্রথম প্রতিমা তৈরির হাতেখড়ি হয়। সেই থেকে প্রতিবছর ঠাকুমার কাছ থেকে আটা নিয়ে আপন মনে গড়তে থাকে দুর্গা, সিংহ, অসুর। সে-ই যেহেতু মেলোডি ক্লাবের দুর্গাপুজোর মূল উদ্যোক্তা, তাই বাড়িতে বসে অনলাইন ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তম শ্রেণিতে পড়া এই খুদে শিল্পীর পুজোকে ঘিরে চলছে চরম ব্যস্ততা। শুধু দুর্গামূর্তিই নয়, থার্মোকলের তৈরি মণ্ডপ নিয়ে রয়েছে বিস্তর চিন্তাভাবনা। পাশাপাশি আলোকসজ্জার বিষয় কী হবে, ইতিমধ্যে তার পরিকল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোর চারদিন কী কী ভোগ দেওয়া হবে, সেই ব্যাপারেও ঠাকুমা, বাবা ও মাকে নিয়ে নানান আলোচনা চলছে। সানাই বলে, আটার মণ্ডকে যখন দুর্গার রূপ দিই, তখন আমার খুব আনন্দ হয়। প্রতিবার পুজোর দেড়-দুমাস আগে থেকেই মেলোডি ক্লাবের পুজো নিয়ে পরিকল্পনা শুরু হয়। পড়াশোনা, ছবি আঁকা, নাটকের পাশাপাশি প্রতিমা গড়তে আমার বেশ ভালো লাগে। পুজোর চারদিন আমি ঠাকুমার শেখানো মন্ত্র পড়ে পুজো করি। পাড়ার অনেকেই আমার এই পুজো দেখতে আসেন।

সানাইয়ে ঠাকুমা কল্পনা সাহা বলেন, একদিন রুটি তৈরির সময় আটার মণ্ড চায় সে। আমি তখনও বুঝিনি ওর মনে কী আছে। তারপর দেখি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছে। তারপর ছ বছর ধরে নিজেই মায়ে মূর্তি তৈরি করে। প্রতিমা রং করে। আমি সারা বছর ওকে ছোট ছোট করে মন্ত্র শেখাই। সেই মন্ত্র পড়েই ও পুজোর চারটে দিন মায়ের আরাধনা করে। সানাইয়ে বাবা তথা কালিয়াগঞ্জের নাট্যশিল্পী বিভুভূষণ সাহা বলেন, প্রথম যেদিন দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করেছিল আমি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। কেউ কোনওদিন শিখিয়ে দেয়নি। বাড়ির সবাই সানাইকে এই বিষয়ে উৎসাহ দিই। আমাদের পরের প্রজন্ম এখন মোবাইল আর ইন্টারনেটে ডুবে রয়েছে। তাই সানাইয়ে জীবন থেকে যাতে শিল্প ও সংস্কৃতির ধারা হারিয়ে না যায়, সেজন্য এই সমস্ত কাজে আমরা সবসময় ওর পাশে থাকি।

- Advertisement -