ভরা নদীতে পকলিন নামিয়ে অবাধে বালি-পাথর তোলা হচ্ছে

265

ওদলাবাড়ি : করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকমাস ধরে নদীর বুকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অভিযান বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে ভরা নদীর বুকে পকলিনের মতো ভারী মেশিনপত্র নামিয়ে কোনওরকম চিন্তাভাবনা ছাড়াই খনন চলছে। একইসঙ্গে নদীর বুকে চালুনি বসিয়ে বালি, বজরি ঝাড়াই-বাছাইয়ে কাজও চলছে। এসব করার ফলে একদিকে পাহাড়ি নদীগুলোর হঠাৎ করে গতিপথ পালটে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। আবার হড়পার মতো বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। চোখের সামনে অবৈধ এই কারবার চললেও নির্বিকার প্রশাসন।

ওদলাবাড়িতে চেল ও ঘিস নদীর আপ ও ডাউন স্ট্রিমে সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত নদীতে ভারী মেশিনপত্র নামিয়ে বালি, বজরি তুলে চালুনিতে ছেঁকে ডাম্পারে লোড করে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। ইজারাপ্রাপ্ত ছোট-বড় নতুন সব খাদানের লাইসেন্সধারীরা সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই একপ্রকার গায়ের জোরেই নিজেদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। চেল নদীর ডাউনস্ট্রিমে নির্দিষ্ট এলাকায় বালি, বজরি তোলার রয্যালটি লাইসেন্স আছে এমন এক ব্যবসায়ী জোর গলায় বলছেন, সরকারের কোষাগারে রাজস্ব বাবদ অগ্রিম অর্থ দিয়ে আমরা রয্যালটি লাইসেন্স পেয়েছি, সুতরাং নদীর বুকে ভারী মেশিনপত্র নামিয়ে বালি, বজরি আমরা তুলে নিতেই পারি। কে আমাদের রুখবে? একই চিত্র বাকি জায়গাগুলোতেও।

- Advertisement -

ওদলাবাড়ির একাধিক পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে এভাবে চলতে থাকলে পাহাড়ি নদী দুটি যে কোনওদিন তাদের স্বাভাবিক গতিপথ পালটে লোকালয়ে প্রবেশ করবে। হড়পার কোপে পড়বেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া নদীর বুকে খুঁড়ে রাখা গর্তে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। একই ইশ্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মধুমিতা ঘোষ। তিনি বলেন, নদীকে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ইচ্ছামতো ব্যবহার করার মানসিকতার ফলে যে কোনও সময় বন্যা বা প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। মালের মহকুমা শাসককে পুরো বিষয়টি জানিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।

বিষয়টি নিয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মাল মহকুমা আধিকারিক নরবু ইয়োলমোকে ফোন করা হলেও উত্তর মেলেনি। তবে মাল মহকুমার এক রেভিনিউ অফিসার বলেন, একমাত্র নদীবাঁধ নির্মাণের কাজ ছাড়া কোনও অবস্থাতেই নদীর বুকে পকলিনের মতো ভারী মেশিনপত্র নামিয়ে বালি, বজরি তুলে নেওয়া যায় না। পুরোটাই অবৈধ কারবার। তিনি বলেন, করোনা আবহে আপাতত নদীগুলোতে বেআইনি কারবার রুখতে আমাদের অভিযান বন্ধ আছে। তবে যে কোনও দিন আবার অভিযান শুরু হবে।