শিলতোর্ষা নদীতে বাঁধ দিয়ে বালিপাথর তোলা হচ্ছে

সুমন কাঞ্জিলাল, আলিপুরদুয়ার : সম্প্রতি শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের কয়েকদিন আগে অভিয়ান চালিয়ে অবৈধভাবে বালি ও পাথর পরিবহণের অভিযোগে ২৫টি ট্রাক আটক করেছিলেন জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা। আটক গাড়িগুলির কাছ থেকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সফর শেষ হতেই গোটা জেলায় অবৈধ বালি ও পাথরের কারবারের রমরমা। এবার বালিপাথরের অবৈধ কারবারিরা আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকে পকলিন ব্যবহার করে শিলতোর্ষা নদীর মুখ ঘুরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, জলদাপাড়া বনবিভাগের অন্তর্গত চিলাপাতা রেঞ্জের শিলতোর্ষা নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে নদীর মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নদীতে জল কমে গেলে সেখান থেকে বেআইনিভাবে বালিপাথর তোলাই বালির কারবারিদের অন্যতম উদ্দেশ্য। কীভাবে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে নদীতে জোর করে বাঁধ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই প্রশ্ন তুলে বিজেপি নেতৃত্ব জেলাশাসক, পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, শিলতোর্ষা নদীতে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে বালিপাথর উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। আলিপুরদুয়ার-১’এর বিএলএলআরওকে এ বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

- Advertisement -

বিজেপির জেলা সম্পাদক জয়ন্ত রায়ের অভিযোগ, আমি গত ২৫ অক্টোবর জেলাশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসনের তরফে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনচারদিন আগে থেকে নদীতে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে বালিপাথর খননের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তার ভিডিয়ো ফুটেজও আমাদের কাছে রয়েছে। এই ঘটনায় ওই এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী যুক্ত। জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা বলেন, আমার কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। বালিপাথর খননের বিষয়টি জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিক বলতে পারবেন। বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন,  মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে জেলা প্রশাসন অবৈধ বালিপাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে লোকদেখানো অভিয়ান শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পর অবৈধ বালিপাথরের কারবারিরা আরও দ্বিগুণ উৎসাহে খননের কাজে নেমে পড়েছে। এবার তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে নদীর মধ্যেই বেআইনিভাবে বাঁধ দিয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়।

জেলা বিজেপি নেতৃত্বের এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্য ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের পরামর্শদাতা কমিটির চেয়ারম্যান মৃদুল গোস্বামী। জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, গোটা জেলায় অবৈধ বালিপাথরের উত্তোলন ও পরিবহণের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে। ১৫ দিন অন্তর প্রতিটি ব্লকের বিএলএলআরওকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন নদীতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পকলিন, আর্থমুভার নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্ত যন্ত্রের কোনো সঠিক কাগজপত্র নেই। রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। ফলে এই যন্ত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালিপাথর উত্তোলন করা হলেও যন্ত্রের মালিকদের ধরা যাচ্ছে না। কুমারগ্রাম ব্লকের ভলকা বারবিশা-২ এলাকায় সংকোশ নদীতে অভিযান চালাতে গিয়ে দুটি পকলিন এবং আর্থমুভার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।