বালি মাফিয়াদের টার্গেট এবার রেলসেতু

169

খোকন সাহা, বাগডোগরা : ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে মাটিগাড়ায় বালাসন সেতুর পিলার বসে যাবার পরে এবার এখানকার রেলসেতুর ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। এনএফ রেলের এই সেতুর ক্ষতি হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। নিয়ম অনুসারে সেতুর ২০০ মিটারের মধ্যে নদী থেকে বালি-পাথর তোলা নিষিদ্ধ। কিন্তু কালা না শোনে ধর্মের কাহিনী। স্থানীয় একশ্রেণির মানুষের সহায়তায় নদী মাফিয়ারা নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিনের আলোয় রেলসেতুর ১০০ ফুটের মধ্যে নদীতে ট্রাক নামিয়ে বালি-বজরি তুলে নিচ্ছে প্রতিদিন।

এই কাজের সঙ্গে স্থানীয় শাসকদলের নেতারা জড়িত রয়েছেন বলে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।দালালচক্র মাটিগাড়া বালাসন নদীর পাড় এবং চর দখল করে প্লট করে বিক্রি করে দিয়েছে। সেখানে এখন দালানকোঠা তৈরি হয়েছে। ফলে নদী তার নিজের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে নিয়েছে। নদীর দুপাশের পাড় ভেঙে গিয়েছে অনেক আগেই। তার ওপরে সেতুর পিলারের কাছে থেকে বালি-বজরি তুলে নেবার জন্য পিলারগুলি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

- Advertisement -

বালাসন পূর্বদিক দিয়ে গতিপথ তৈরি করে নেবার ফলে রেলসেতুর পূর্বদিকের পিলারের নীচের মাটি সরে গিয়েছে। মাটিগাড়ার বাসিন্দা তথা মাটিগাড়া সোশ্যাল অর্গানাইজেশনের সম্পাদক ডাঃ মলয় বাগচী বলেন, সেতুর পিলার সংলগ্ন স্থান থেকে বালি-পাথর তোলা কোনওভাবেই উচিত নয়। এর আগে বালাসন সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রেলসেতুর কাছে পরিমলনগরের এক বাসিন্দা বলেন, যখন নদী থেকে বালি-পাথর তোলা বন্ধ ছিল তখন দেখেছি প্রশাসনকে হাত করে রাতের অন্ধকারে বালি-পাথর লুট করা হত। এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বালি-পাথর লুট চলছে। সাধনা রায় নামে এক গৃহবধূ বলেন, যাঁরা এই কাজ করছেন তাঁরা স্থানীয় লোক। ওঁরা শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাই কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।

 পরিমলনগরের জনৈক গাড়িচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এর আগে প্রতি রাতে ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাকে বালি-বজরি পাচার হত। এখন রাতে বেশি হয় না, দিনের আলোতেই হয়। আমরা বাড়িতে বসে দেখি আর ভাবি এই রেলসেতু ভেঙে পড়ল বলে।

মাটিগাড়া ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ দেব বলেন, সেতুর একেবারে কাছ থেকে বালি-বজরি তোলার আমরা প্রতিবাদ করছি। প্রশাসনের উচিত বিষয়টা দেখা। তৃণমূলের মাটিগাড়া ব্লক সভাপতি অভিজিৎ পাল বলেন, যাঁরা নদী থেকে বালি-বজরি তোলেন তাঁরা ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা আজ আমাদের দলের সঙ্গে আছেন। কাল তাঁরা অন্য দল করতে পারেন।

মাটিগাড়ার বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস বলেন, এরকম হলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। মাটিগাড়া ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুবিমল চক্রবর্তী বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি-পাথর তোলার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান প্রতিদিন চলছে। গতকাল অভিযান চালিয়ে দুটি গাড়ি ধরে জরিমানা করা হয়েছে। রেলসেতুর কাছ থেকে কেউ বালি-বজরি তুলছে বলে আমার জানা নেই। যদি এমন হয় তবে ব্যবস্থা নেব। ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক একথা বললেও এলাকার মানুষ তাঁদের ওপর ভরসা করেন না।