ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : কালজানি নদী থেকে দিনেরবেলায় অবাধে বালি পাচার চলছে। নদীর মধ্যে রীতিমতো ট্র‌্যাক্টর নামিয়ে গাড়ি গাড়ি বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই বালি আবার আলিপুরদুয়ার শহর সহ অন্যত্র পাচার হচ্ছে। শহর সংলগ্ন তপসিখাতা এলাকার কালজানি নদী থেকে এই বালি পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকজন রীতিমতো সিন্ডিকেট করে ঘণ্টাপ্রতি চুক্তিতে নদী থেকে বালি তুলছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কালজানি নদীর একবারে বাঁধের পাড় সংলগ্ন এলাকা থেকে বালি তুলে মোটা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু, সব জেনেও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বা ভূমিসংস্কার দপ্তর পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে তপসিখাতা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে য়েমন ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তেমনি কালজানি নদী থেকে বালি পাচারের বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবিদরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তপসিখাতা বাজার থেকে পাটকাপাড়া এলাকা দিয়ে কালজানি নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীই আলিপুরদুয়ার শহরের লাইফলাইন। কিন্তু, বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই কালজানি নদী ব্যাপকভাবে দূষণের কবলে পড়েছে। আবার ড্রেজিং না করায় নদীবক্ষ অনেকটা উঁচু হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই কালজানি নদী নিয়ে আলিপুরদুয়ারের সাধারণ মানুষ থেকে পরিবেশকর্মী সকলেই চিন্তিত। এর মধ্যেই এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বালি পাচারের ঘটনা। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্যে কালজানি থেকে বালি লুঠ হচ্ছে বলে অভিযোগ। একেবারে নদীর মাঝখান সহ বাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে ট্র‌্যাক্টর নামিয়ে বালি তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবেই বালি তোলা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাফিয়াদের ভয়ে তাঁরাও কিছু বলতে পারেন না।

পাটকাপাড়া এলাকার বাসিন্দা তপন বর্মন বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে কালজানি নদী থেকে প্রকাশ্যে বালি তোলা হচ্ছে। মাঝে আমরা এই বালি তোলায় বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু রাতের দিকে মাফিয়ারা বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যায়। তাই এখন আর প্রতিবাদ করি না। তপসিখাতা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল কর্মী বলেন, শুধু কালজানি নয় জেলার আরও কিছু নদী থেকে বালি তোলা হচ্ছে। এছাড়া, নদী সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটিও কাটা হচ্ছে। গোটা বিষয়টিতে প্রশাসনের কিছু কর্মী কাটমানি খান। তাই আধিকারিকরা যখন এই অবৈধ উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালান তখন ওই কর্মীরাই মাফিয়াদের আগাম খবর দিয়ে দেন। আলিপুরদুয়ার জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, জেলার বিভিন্ন নদী থেকে দীর্ঘদিন থেকেই অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে। এই কাজে কিছু সরকারি কর্মী থেকে শাসকদলের নেতা-কর্মীরাও জড়িত। প্রশাসনের উঁচুস্তরের আধিকারিকরা সব জেনেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। স্বাভাবিকভাবেই নদী থেকে এই অবৈধ উত্তোলনও বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জয়ন্তবাবু অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক অপর্ণা মণ্ডল বলেন, আমরা নিয়মিত নদীতে অবৈধ বালি তোলা রুখতে অভিযান চালাই। মাঝেমধ্যে ট্র‌্যাক্টর, ট্রাক সহ বালি তোলার যন্ত্রপাতিও বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে এখন কালজানি নদী থেকে কেউ যদি অবৈধভাবে বালি তোলে তবে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিএলআরও জানিয়েছেন।