দেদার চলছে মাটি কেটে বিক্রির কারবার, নির্বিকার প্রশাসন

149

রায়গঞ্জ: অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠল রায়গঞ্জ ব্লকের রামপুর অঞ্চলের সাহাপুর গ্রামে। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সহ বাসিন্দারা প্রশাসনকে গণডেপুটেশন দিলেও এই কারবার এখনও বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ। বিশেষ কোনও নেতার বা ক্ষমতাবান ব্যক্তির হাত আছে কিনা, তা জানা নেই গ্রামবাসীদের।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত রয়্যালটি ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে মাটি কেটে বেপরোয়াভাবে ট্রাক এবং ট্র্যাক্টর ব্যবহার করে মাটি বিক্রি করে ব্যক্তিগত মুনাফা লুঠছে। এর ফলে কৃষিজমির পরিবেশ ও সড়ক পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রটি নষ্ট হতে চলেছে বলে মনে করছেন গ্রামবাসীরা।

- Advertisement -

গ্রামবাসী সুকুমার দাস, সঞ্জীত দাসরা জানান, জানান, এভাবে প্রতিনিয়ত মাটি কেটে নিলে আগামীদিনে গ্রামের আর অস্তিত্ব থাকবে না। যেভাবে মাটি কেটে বেপরোয়াভাবে ট্রাক এবং ট্র্যাক্টর চলাচল করছে তাতে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাছাড়াও মাটি কেটে নেওয়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পাশের জমিগুলিও নষ্ট হবে বলে দাবি করছেন তাঁরা। তাই এই কারবার বন্ধের দাবি জানি জানানো হয়েছে। গ্রামবাসীদের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মিঠুন সরকার। তিনি জানান, মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও চলছে সেই কারবার।

রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা বিজেপি নেতা অমল সরকার বলেন, ‘মাটি কাটা নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে গণ্ডগোল হয়েছে সেটা শুনেছিলাম। কিন্ত তারপর কি হয়েছে শুনিনি। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।’

এদিকে নিজের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় যে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে তা চড়া দামে বিক্রি করছে অসাধু মাটি কারবারীরা তা প্রধানের নজরে নেই তা মানতে নারাজ সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য উত্তম পাল বলেন, ‘বিজেপি ও তৃণমূল যৌথভাবে বেআইনি কারবার চালাচ্ছে বলেই প্রধান দেখে না দেখার ভান করে আছেন। অবিলম্বে বেআইনি কাজ বন্ধ করা না হলে গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর অচল করে দেওয়া হবে।’

এ নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মলয় সরকার বলেন, ‘পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কেনাবেচা চলছে। প্রধান কিছু জানেন না তা হতে পারে না। আমরা চাই বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা বন্ধ হোক।’

যদিও এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা জানান, মাটি কাটা নিয়ে যেহেতু অভিযোগ এসেছে। সেখানে পুলিশকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টা দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।