বালি-পাথর পাচারের রমরমা ফালাকাটায়

99

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কার্যত লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত পুলিশ প্রশাসন। এদিকে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফালাকাটায় বালি, পাথরের রমরমা পাচার চলছে বলে অভিযোগ। ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়ক সহ গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ট্র‌্যাক্টর ট্রলি। অভিযোগ, অধিকাংশ ট্র‌্যাক্টর ট্রলির লাইসেন্স নেই। আবার চালকদেরও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। প্রশাসন সূত্রের খবর, ফালাকাটা ব্লকের কোনও নদীতেই বালি-পাথর তোলার অনুমতি নেই। এদিকে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়কের কাজ চলছে। এজন্য রাস্তার পাশে অনেকের ঘরবাড়ি ভাঙা পড়েছে। এবার লকডাউনেও নির্মাণকাজ চলছে। এজন্য কিছুটা কম দামে অনেকেই ট্র‌্যাক্টর ট্রলিতে করে অবৈধভাবে বালি, পাথর কিনে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফালাকাটা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

ফালাকাটার বিএলএলআরও শেখ মিলন বলেন, আমাদের অফিস এখন বন্ধ। অফিসের স্টাফরাও কোভিডের ডিউটি করছেন। পুলিশকে বিষয়টি দেখার জন্য জানাচ্ছি। লকডাউনে যে বালি পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে তা মেনে নিয়েছেন ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ বর্মন। তিনি বলেন, লকডাউনের সুযোগকে পাচারকারীরা কাজে লাগাচ্ছে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -

এবারের লকডাউনে বৈধভাবে নদী থেকে বালি, পাথর উত্তোলন চালু নাকি বন্ধ থাকবে সে ব্যাপারে সরকারি নোটিশে স্পষ্ট নির্দেশিকা ছিল না। তবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় বৈধভাবে বালি, পাথরের ট্রাক চলাচল করতে পারছে না। তাই এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাচারকারীরা। তবে ফালাকাটায় আগে থেকেই কোনও নদীতে বালি, পাথর তোলার অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝেমধ্যেই বালি, পাথর তোলা হয়।

এখন বিনা রয়্যালটিতে এভাবে বালি, পাথর তোলার ক্ষেত্রে ট্র‌্যাক্টর ট্রলিকেই ব্যবহার করে পাচারকারীরা। এবার পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই বেড়েছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, ফালাকাটার চরতোর্ষা নদীর কুঞ্জনগর, বংশীধরপুর, বালুরঘাট এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালি, পাথর তোলা হয়। ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়ক সহ কালীপুর, বংশীধরপুর, রাইচেঙ্গা এলাকার রাস্তা ধরে ট্র‌্যাক্টর ট্রলিগুলি চলাচল করছে। পাচারকারীরা এক ট্রলি পাথর দু-আড়াই হাজার টাকা, বালি দেড়-দুহাজার টাকা এবং মাটি ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করছে। অনেক সময় দূরত্ব বুঝে বালি, পাথর ও মাটির দামের হেরফের হয়।

ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি এলাকার অনেকেই লকডাউনের জেরে আর্থিক ধাক্কায় বৈধভাবে বেশি দাম দিয়ে বালি, পাথর না কিনে অবৈধ পাচার হওয়া এই ট্র‌্যাক্টর ট্রলির বালি-পাথর কিনছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বর্ষার আগে ঘরের কাজ শেষ না হলে বড় সমস্যা হবে। তাই তড়িঘড়ি কাজ চলছে। ট্রাক বন্ধ থাকায় বৈধভাবে বালি, পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কিছুটা কম দামে ট্র‌্যাক্টর ট্রলির বালি, পাথর কিনে নিচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।