রাগবির দুনিয়াকে দিশা দেখাচ্ছেন উত্তরের সন্ধ্যা

208

সুভাষচন্দ্র বসু, বেলাকোবা : আনস্টপেবল। অর্থাৎ অদম্য। উত্তরের জলপাইগুড়ি জেলার সরস্বতীপুর চা বাগানের সন্ধ্যা রাই তো তাইই। সামনের বছর নিউজিল্যান্ডে মহিলাদের বিশ্ব রাগবি প্রতিযোগিতার আসর বসছে। প্রতিযোগিতাকে সফল করতে ইতিমধ্যেই নানা প্রচারমূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়া আনস্টপেবল নামে এমনই এক কর্মসূচিতে ভারতের হয়ে সন্ধ্যা সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিযোগিতার প্রচারের জন্য এশিয়া মহাদেশ থেকে যে সেরা ৩২ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে, সন্ধ্যা আছেন তাঁদের মধ্যেও।

২০১৩ সাল থেকে শুরু। মাত্র আট বছরেই সন্ধ্যা যা করেছেন তাতে এটা নিশ্চিত যে, তিনি অদম্যই বটে। চা বাগানের খেলা বলতে ফুটবল। কিছুটা ক্রিকেট। এই পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালে সন্ধ্যার রাগবি খেলতে নামা। প্রথম বছরটা বাগানে বাগানে খেলার পর পরের বছরটায় জঙ্গল ক্রোজ ক্লাবের হয়ে খেলা। তারপর রাজ্যস্তর হয়ে দেশের জন্য শিবিরে নির্বাচিত হওয়া। বাবা শ্যাম রাই বাগানের শ্রমিক। বাড়িতে মা পকচি ও ভাই প্রমোদের পাশাপাশি দারুণ দারিদ্র‌্যও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও সন্ধ্যার দাঁতে দাঁত চেপে রাগবি খেলাটা চলেছে। ফলটাও হাতেনাতে মিলেছে। অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ ভারতীয় মহিলা দলের ক্যাপ্টেন্সি করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে শুরু করে দেশের সিনিয়ার টিমের হয়ে ইতিমধ্যেই আটবার প্রতিনিধিত্ব করা হয়ে গিয়েছে। ফ্রান্সে গিয়ে রাগবি খেলে নিজস্ব স্কিলে সবাইকে মাতিয়েছেন। খেলো রাগবি ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপ পেয়েছেন। বর্তমানে কলকাতায় স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি মেয়েদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।

- Advertisement -

ঠিক গল্পের মতো শোনাচ্ছে না? আর জীবন থেকেই তো গল্প হয়। মাত্র ২০ বছর বয়সে এভাবে দেশের অন্যতম হয়ে ওঠা, দুনিয়াজোড়া প্রচারের অংশ হওয়া, এসব কোনওদিন সম্ভব হবে বলে ভেবেছিলেন? রাগবির মাঠে দুরন্ত বছর ২০-র যুবতী যেন কিছুটা লজ্জিত। বলছেন, ফুটবল, ক্রিকেটে ছেলেদের আধিপত্যের মাঝে আমাদের বাগানের মেয়েরা যেভাবে রাগবিকে আঁকড়ে ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তা যদি অন্যদের অনুপ্রাণিত করে তবেই আমাদের সাফল্য। দেশের রাগবিতে এই বাগানের একটা আলাদা অবদান আছে। এই বাগানের নজন মেয়ে ইতিমধ্যেই দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আত্মতুষ্টিতে ভুগে নয়, রীতিমতো আত্মসমীক্ষা চালিয়ে সন্ধ্যা বলছেন, নিউজিল্যান্ডে মহিলাদের বিশ্ব রাগবি প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করতে পেরে দেশের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গকে গর্বিত করতে পারলে নিজেকে কিছুটা সফল বলে মনে করব। সন্ধ্যার হাত ধরে উত্তরও আনস্টপেবল হওয়ার স্বপ্নে মশগুল।