জুতো সেলাই করে উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৫১ পেল সঞ্জয়

617

মুরতুজ আলম, সামসী: পরিবারের আর্থিক সংকট চরমে। ঠিকমতো দুবেলা দুমুঠো খেতেও পায় না। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ২০০৩ সালে বাবা মারা গেছেন। বিধবা মা কল্যাণী রবি দাস ও দাদা সাগর রবিদাস রয়েছেন সংসারে। মা ও দাদাকে নিয়ে জুতো সেলাই করে সংসার চালান একার হাতে। এর মধ্যে পড়াশুনাও চালিয়ে গেছে চাঁচল ১ ব্লকের অলিহন্ডা জিপির কনুয়া গ্রামের সঞ্জয় রবি দাস।

সঞ্জয় রবিদাস ক্লাসে বরাবরই ফার্স্ট বয়। সে এবার কনুয়া হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছিল। পেয়েছে ৪৫১ নম্বর অর্থাৎ নব্বই শতাংশের একটু বেশি। মাধ্যমিকেও সে ৪৬৫ নম্বর পেয়েছিল। মেধাবী সঞ্জয় রবিদাস নব্বই শতাংশ নম্বর পেলেও কলেজে ভরতি হওয়ার জন্য টাকা নেই। এনিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সঞ্জয় ও তাঁর পরিবার।

- Advertisement -

সঞ্জয় কনুয়া বাজারে ফুটপাতে বসে জুতো সেলাই করে। সে জানায়, জুতো সেলাই করে কোনোদিন ৫০, কোনোদিন ১০০ টাকা জোটে। কোনোদিন আবার খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। এনিয়ে সংসার চালাতে চরম হিমসিম খেতে হয়। সংসারের হাল ধরতে মাকেও পরের জমিতে দিন মজুরি করতে হয়। দাদা সাগর রবিদাস পাঞ্জাবে রাইস মিলে শ্রমিকের কাজ করত। পরে পাঞ্জাব থেকে এসে গাজোলে একটা শপিং মলে কাজ করত। কিন্তু লকডাউনে কাজ হারিয়ে দাদা বর্তমানে বাড়িতে বসে রয়েছে।

সঞ্জয় রবিদাস আরও জানিয়েছেন, বাবার মাঠে জমি জায়গা নেই। পৈতৃক সূত্রে বাবা দু কাঠা ভিটে বাড়ি পেয়েছে। ওই দু’কাঠার জমির ওপর ভাঙাচোরা বাড়ি। রয়েছে মাত্র দু খানা ঘর। সঞ্জয় জানিয়েছে, কনুয়া বাজারে সকাল, বিকেল জুতো সেলাই করতাম। বাকি সময়টুকু স্কুল যাওয়া আর পড়াশুনা করতাম। অর্থাভাবে টিউশনি পড়তে পারেনি কোনোদিন। পাঠ্যবই টুকুও কিনতে পারেনি। সহপাঠিদের কাছ থেকে বই নিয়ে পড়তো সে।

মেধাবী সঞ্জয় অদম্য জেদ ও ইচ্ছে শক্তির জোরে এগোতে চাই। যাদবপুর অথবা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইংরেজি বা ইতিহাস নিয়ে পড়তে চাই। ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে বিডিও হওয়া। বিডিও হয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়াতে চাই। সঞ্জয়ের মা কল্যাণী রবিদাস জানিয়েছেন, ছেলেকে কলেজে ভরতি করার মতোও অর্থ নেই। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কল্যাণীদেবী। তাই সঞ্জয়ের উচ্চ শিক্ষার জন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য না পেলে কলেজে ভরতি হতে পারবেনা সঞ্জয়। এরফলে সঞ্জয় অকালেই হারিয়ে ফেলবে ভবিষ্যতের ঠিকানা।

যদিও কনুয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজা চৌধুরী মেধাবী সঞ্জয়কে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। এলাকার জেলা পরিষদ সদস্য সামিউল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে সঞ্জয় রবিদাসকে আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছেন। চাঁচল ১ বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য বলেন, সঞ্জয় ও সঞ্জয়ের পরিবার তার উচ্চ শিক্ষার জন্য সাহায্যের জন্য আবেদন করলে ব্লক প্রশাসনের তরফে আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি ভাবা হতে পারে।