সংসারের হাল ধরতে মাস্ক বিক্রি করছে সঞ্জয়

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : বড়রা তো বটেই, দেশজুড়ে লকডাউন অনেকক্ষেত্রে ছোটদের জীবনেও এনেছে বড় পরিবর্তন। এরকমই একজন দিনহাটার সোনিদেবী হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া সঞ্জয় মোদক। লকডাউনে সংসারের হাল ধরতে সঞ্জয় এখন মাস্ক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের বহির্বিভাগ, এসডিও অফিস, আবার কখনও বিডিও অফিসে। যার মুখে মাস্ক নেই, তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করছে মাস্ক নেবেন কি না। পাশাপাশি, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মাস্ক পরা কতটা জরুরি, সেটাও সবাইকে বোঝাচ্ছে সে।

সঞ্জয় জানাল, দিনহাটার হেমন্টন বাজার লাগোয়া এলাকায় তার বাড়ি। পরিবারে সঞ্জয়কে নিয়ে ছয়জন সদস্য। সঞ্জয়ে বাবা একটি বেসরকারি বাসের কনডাক্টরের কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু লকডাউনের পর থেকে বাস বন্ধ থাকায় সেই কাজও নেই। গ্রিন জোনে ২০ জন যাত্রী নিয়ে প্রশাসন বাস চালানোর অনুমতি দিলেও লোকসানের কারণে অনেক মালিকই এখনও রাস্তায় বাস নামাতে রাজি নন। যার জেরে সঞ্জয়ে বাবার মতো অনেক পরিবহণকর্মীর কাজ জুটছে না। সেজন্য সংসারের হাল ধরতে সঞ্জয় পড়াশোনার ফাঁকে মাস্ক বিক্রি করছে। সঞ্জয়ে কথায়, বাড়ির সদস্য হিসেবে বাকিদের মতো আমারও সংসারের প্রতি কর্তব্য রয়েছে। তাই আমি এই কাজ করছি। একেকটি মাস্ক সে দশ টাকা করে বিক্রি করছে। বেশ কিছু মানুষ এখনও মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরোচ্ছেন। তাঁদের কাছেই এই মাস্ক বিক্রি করছে সে।

- Advertisement -

তবে সঞ্জয় জানায়, এজন্য তার পড়াশোনার কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। সকালে পড়াশোনা করে পাইকারের কাছে মাল নিয়ে সকাল দশটার মধ্যে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চলে আসছে। স্কুল বন্ধ থাকায় অনয়াসে এই কাজ করতে পারছে সে। প্রতিদিন এই মাস্ক বিক্রি করে ১০০-১৫০ টাকা রোজগার হচ্ছে। তবে সে জানাল, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যদি সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যেত তাহলে ভালো হত। ক্রেতা মলয় দে বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষ যে কতটা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে তা এই ছেলেটিকে দেখলেই বোঝা যায়।