পেটে খিদে নিয়ে লড়াই করে জাতীয়স্তরের অ্যাথলেটিকসে সপ্তমী

226

হরষিত সিংহ, মালদা : অভাবকে পিছনে ফেলে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে মালদার মেয়ে সপ্তমী মণ্ডল। রাঁচিতে আয়োজিত পূর্বাঞ্চল মিটে ১০ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে সে। সেই সুবাদেই প্রথমবার জাতীয় স্তরের মাঠে নামতে চলেছে সপ্তমী। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ে বসতে চলেছে জাতীয় অ্যাথলেটিকসের আসর। সেখানে ১০ কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সে। এখন তারই প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। রাঁচি থেকে বাড়ি ফিরেই রুটিন মাফিক লক্ষ্মণ সেন স্টেডিয়ামে সুদামচন্দ্র ঘোষ ও মানসকুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে চলছে তার অনুশীলন।

মালদা শহরের জাহাজ ফিল্ড এলাকায় বাড়ি জেলার সোনার মেয়ে সপ্তমীর। বাবা অমল মণ্ডল পেশায় সবজি বিক্রেতা। পরিবারে রয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন মা নন্দরানি মণ্ডল। সপ্তমীরা তিন ভাইবোন। সে সবার বড়ো। তাই স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে রান্না সহ ঘরের সমস্ত কাজ সামলাতে হয়। বর্তমানে মাধাইপুর এআর হাইস্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে সে। পড়াশোনা ও সংসার সামলে নিজের প্রতিভাকে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই কিশোরী। সপ্তমী জানায়, ছোটোবেলা থেকেই খেলাধুলোর প্রতি আগ্রহ ছিল। কিন্তু অভাবের সংসারে খেলার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা ভাবতেই পারিনি। তখনই স্কুলের এক শিক্ষিকার মাধ্যমে মালদার প্রতিভার সন্ধানে স্পোর্টস অ্যাকাডেমির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আমি ছোটো থেকেই এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। ছোটো থেকেই লক্ষ্য ছিল জাতীয় স্তরে খেলার। অবশেষে সেই সুযোগ পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে। আমি চেষ্টা করব এখানেও যেন ভালো ফল করতে পারি। এখন তারই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সপ্তমী শুরু করে হাঁটা রেসের অনুশীলন। মালদার প্রতিভার সন্ধানে স্পোর্টস অ্যাকাডেমির সদস্যরা তার প্রশিক্ষণ শুরু করান জাহাজ ফিল্ড মাঠে। ২০১৩ সালে স্কুলস্তরের হাঁটা প্রতিযোগিতায় প্রথমবার সে পুরস্কার পায়। সেই বছরই রাজ্যস্তরে খেলে সফল হয় সপ্তমী। তারপর থেকেই একের পর এক সাফল্য অর্জন করে চলেছে সে। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত চারবার পূর্বাঞ্চল মিটে অংশগ্রহণ করেছে সপ্তমী। দুবার সোনা ও একবার করে রুপো ও ব্রোঞ্জ পেয়েছে। এছাড়াও একবার জাতীয় স্কুল অ্যাথলেটিকসে অংশগ্রহণ করেছে। তবে এবারই প্রথম জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মালদার সপ্তমী। রাঁচিতে ১০ কিলোমিটার হাঁটতে সে সময় নিয়েছে ৫৮.৪৭ মিনিট। আর এই প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘন্টার ব্যবধানে ৫,০০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সে তৃতীয স্থান লাভ করে। সময নেয় ২০.৪৩ মিনিট। রাজ্যস্তরে ৫০০০ মিটার দৌড় সম্পূর্ণ করতে সময় নিয়েছিল ১৯.৩৬ মিনিট। দুটি প্রতিযোগিতার মধ্যে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সময় পেলে সে আরও ভাল ফল করত বলে তার দাবি।

প্রশিক্ষক সুদামবাবু বলেন, সপ্তমীর মধ্যে যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু দুস্থ পরিবার থেকে উঠে আসায় খেলাধুলোর সরঞ্জাম কিনতে পারে না। আমরা যতটুকু পারি তাকে সাহায্য করি। সরকারি সাহায্য পেলে মেয়েটি আগামীতে অনেক বড়ো মাপের অ্যাথলিট হতে পারবে। আরেক প্রশিক্ষক মানসবাবু বলেন, মালদার প্রতিভার সন্ধানে স্পোর্টস অ্যাকাডেমির তরফে আমরা নিয়মিত সপ্তমীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আমরা যতটুকু পারি তাকে সাহায্য করি। আশা করি আগামীতে জাতীয়স্তরে ভালো ফল করে সপ্তমী জেলার নাম উজ্জ্বল করবে।