দুশো বছরের ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে সরাফা ভবন

85

কল্লোল মজুমদার, মালদা : ইতিহাসের বহু সাক্ষ্য বহন করে আজও মালদা শহরের বুকে দাঁড়িয়ে রয়েছে সরাফা ভবন। এই ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ইতিহাস। অথচ এই ইতিহাস জানা নেই মালদার অনেকেরই।
ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যায়, ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলা, বিহার, ওডিশায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু করেন। তারপরই এক ধরনের ভূমি রাজস্ব প্রথার প্রভাব পড়ে মালদা জেলাতেও। সেই সময় মালদা জেলার রেশম, নীল, কার্পাস, বস্ত্র, সোনা, রুপা আমদানি-রপ্তানির সূত্র ধরে ভগবানচন্দ্র চৌধুরীর সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই সময় খাজনা জমা ও আদায়ের হিসাব রাখার জন্য সরাফা ভবন গড়ে তোলা হয়। সালটা ছিল ১৭৯৩-এর আশেপাশে।

ইতিহাস গবেষক কমল বসাকের লেখা একালের গৌড় মালদহ ও সেকালের ইতিহাস বইয়ে পাতা ওলটালে জানা যায়, তখন চৌধুরী বংশের জমিদারির পরিধি বাংলা, বিহার ও বর্তমান পাকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই সমস্ত জমি জায়গা নিয়ন্ত্রিত হত সরাফা ভবনের মাধ্যমে। সে সময় ৩০-৫০ জন কর্মচারী সব সময় কাজ করতেন। গোমস্তারা আটপ্রহরীর মাধ্যমে খাজনা পাঠিয়ে দিতেন। খাজনা আদায়ের জন্য সরাফায় মজুত থাকত লাঠিয়াল। হিসাবের জন্য ৫-৬ জন কেরানি ছিলেন। বইতে কমল বসাক উল্লেখ করেছিলেন, ভগবানচন্দ্র চৌধুরীর বংশধর যতীন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর মতে, সরাফাতে এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ভগবানবাবুর। এরপর তাঁর ছেলে হরিশচন্দ্র চৌধুরী শোকাহত হয়ে সরাফায় না গিয়ে তার পাশেই একটি বাড়ি থেকে জমিদারি কাজ চালিয়ে যেতেন। সেই ভবনটিতে বর্তমানে একটি কাপড়ের দোকান চলছে।

- Advertisement -

আবার শতবর্ষ প্রাচীন গৌড়দূত পত্রিকা ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৮৯৭ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয় মালদা শহরে। ওই ভূমিকম্পে ভগবান চৌধুরী দালান চাপা পড়ে মারা যান। আরও উল্লেখ আছে ভগবানবাবুর একটা অতি প্রিয় পাখি ছিল। ভূমিকম্প আরম্ভ হইবার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওপর হইতে অনেকটা নামিয়া আসিয়া আবার ফিরিয়া পাখিটি আনিতে যাইয়া দালান চাপা পড়েন-পাখিটি কিন্তু বাঁচিয়া যায়।  প্রিয় পাখির জন্য প্রাণদানের কাহিনীও সেই সময় লোকের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে।