সংসার চালাতে অসুস্থ শরীরেও জুতো সেলাইয়ের কাজ করেন সরস্বতী

158

রায়গঞ্জ: সংসার চালাতে অসুস্থ শরীর নিয়েই সরস্বতী রবিদাসকে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতে হয়। রাসবিহারী মার্কেটে রাস্তার পাশে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ফুটপাতে বসে অন্যের জুতো মেরামত করেন সরস্বতী। বয়স ৫৫ হলেও নানা ধরণের অসুখ বাসা বেঁধেছে তাঁর শরীরে। এত কষ্ট করলেও আয় যা হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চলে না। সারাবছর রোদে পুড়তে বা বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করতে হয় এই মহিলা মুচিকে। বন্দর শ্মশানে কুলিক নদীর বাঁধের ওপর ঝুপড়িতে দিন কাটে। চার মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর একাই থাকেন তিনি।

স্বামী চৌধুরী রবিদাস মারা যাওয়ার পর সরস্বতী দেবী ১২ বছর ধরে মুচির কাজ করেন। কোনওদিন ৫০ টাকা, আবার কোনওদিন ৬০ টাকা রোজগার হয় তাঁর। রায়গঞ্জ শহরে মহিলা মুচি বলতে একমাত্র সরস্বর্তী দেবী রয়েছেন। আগে জুতো মেরামত করে ভালো আয় হলেও এখন অসুস্থতার কারণে কাজ না করতে পারায় সেভাবে আয় হয় না। মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন জামাই কৃষ্ণ রবিদাস। শাশুড়ির অসুস্থতার কারণে মালদা থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে এসেছেন তিনি।

- Advertisement -

সরস্বর্তী রবিদাস বলেন, ‘পুরোনো জুতা সেলাই করে কোনওমতে দিন কাটে। বৃদ্ধভাতা পেলেও অন্য কোনও সরকারি সাহায্য পাইনি। তাই অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করতে হয়।’ কাউন্সিলার তপন দাস  বলেন, ‘সরস্বতী নারী হয়েও ফুটপাতে মুচির কাজ করেন। তাঁর বিধবাভাতা করে দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনেও সাহায্য করব।’