স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করতে অস্বীকার নার্সিংহোমের

311

রায়গঞ্জ : স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও রোগীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এমনটাই দাবি রোগীর পরিবারের। রায়গঞ্জ থানার পানিশালা এলাকায় একটি পেট্রলপাম্পে জমির জন্য ডিজেল আনতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন। সেই সময় একটি গাড়ি পেছন থেকে তাঁকে ধাক্কা মারে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করে দেন। হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করার সামর্থ্য ছিল না।

অভিযোগ, এক নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ প্রথমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেওয়ার কথা জানালেও পরে অস্বীকার করে। উল্টে রোগীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। জখম ওই রোগীর ছেলে জাকির হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দিয়ে কোন কাজ হবে না বলে জানিয়েছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় আমাদের অনুমতি ছাড়া আমার বাবার পা কেটে ফেলা হয়েছে। আমি স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ অভিযোগ দায়ের করেছি।’

- Advertisement -

শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের অঞ্চল নেতা সালেক মহম্মদ বলেন, ‘নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ পরিবারের বিনা অনুমতিতে পা কেটেছে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বাতিল করেছে। এই বিষয়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে জানানো হয়েছে।’ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মানস ঘোষ বলেন, ‘একটি মাইক্রো ফিন্যান্স থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে ওই টাকা তিনি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিতে বাধ্য হয়েছেন।পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘এখনও অভিযোগ পাইনি পেলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।’ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রায়গঞ্জের ছয় জন চিকিৎসক রয়েছেন যারা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা করেন না। তাই ওই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড বাতিল করা হয়েছে। আর পরিবারের অনুমতি নিয়েই রোগীর পা কাটা হয়েছে।’