করোনা পরিস্থিতিতেও বকেয়া মহার্ঘ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ স্যাটের

809

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা অর্থাৎ ডিএ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল তথা স্যাট। রাজ্য সরকার ডিএ না মেটালে পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, স্যাটের পূর্ববর্তী নির্দেশ রাজ্য না মানায় আদালত অবমাননার মামলা করেছিল সরকারি কর্মচারী সংগঠন।

অনেক আগেই স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (স্যাট) রাজ্য সরকারি কর্মীদের যাবতীয় বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার আগেই ২০০৬ সাল থেকে বকেয়া যাবতীয় পাওনা সরকারি কর্মীদের মিটিয়ে দিতে হবে। এরপরে ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই রাজ্য সরকারকে স্যাট নির্দেশ দিয়েছিল, পরবর্তী ছ’মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ দিতে হবে। রাজ্য সরকার তা না-দেওয়ায় সরকারি কর্মীদের সংগঠন স্যাটে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে। রাজ্য পুনরায় স্যাটে রিভিউ পিটিশন দায়ের করে। গত ৩ মার্চ রিভিউ পিটিশনের শুনানি শেষ হয়। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ পুরোপুরি মানেনি। রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে স্যাটে।

- Advertisement -

জুলাই মাসের ৮ তারিখ স্যাট রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ করে দেয়। স্যাট স্পষ্ট জানিয়ে দিল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দিতেই হবে। এখন করোনা পরিস্থিতির জন্য ডিএ দেওয়া সমস্যা বলে রাজ্যের পক্ষে জানানো হলে স্যাট বলে এনিয়ে ভাবনাচিন্তা করে দেখা হবে। তবে এই মামলায় বারবারই হারতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে।

সরকারি কর্মীদের সংগঠনের তরফে অ্যাডভোকেট সর্দার আমজাদ আলি বলেন, ‘রাজ্য বারবারই হারার পরেও ডিএ দিতে প্রস্তুত ছিল না। এর পরেই আদালত অবমাননার মামলা হয়। সেখানেই ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেছে স্যাট। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সমান হারে ডিএ দিতে হবে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের। চিফ সেক্রেটারিকে এই নির্দেশ পালন করার রায় দিয়েছে স্যাট।‘

অপরপাশে, রাজ্য স্টেয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক সংকেত চক্রবর্তী বলেন, ‘সত্যের জয় হবেই। সত্যের জন্য লড়াই জোর করে দমিয়ে রাখা যায় না। এই লড়াই করতে গিয়ে অনেকে অনেক সাফার করেছেন। আজকের রায়ে আমরা খুশি, এটা আমাদের জয়। তবে সরকার এবারেও হয়তো নির্দেশ না মেনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা টেনে নিয়ে যেতে পারে, তবে আমরাও প্রস্তুত পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য।‘