সবজি বিক্রেতা সাথির পাশে সঙ্গী হল স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন

284

শিলিগুড়ি, ২৯ এপ্রিলঃ ছোট দুই মেয়েকে বড় করার স্বপ্ন নিয়ে সবজি বোঝাই সাইকেলের প্যাডেলে পা দিয়ে শহরের অলিগলিতে বিক্রির আশায় ঘুরে বেড়ানো শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতিনগরের বাসিন্দা সাথি সিনহার লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে তাঁর পাশে নিজেদের মতন করে দাঁড়াল শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন।

বর্তমানে দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে সংসার। সাথির জীবনে একসময়ে সবকিছু থাকলেও, বছর পাঁচেক আগে একটা ঘটনাই সাথিকে সাথিহারা করে ফেলে। সাথির পরিবার সুত্রে জানা যায়, পেলকুজোতে সে সময়ে বসবাসকারি সাথির স্বামী তাঁকে ছেড়ে দেয়। স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পরেই বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাঠরতা এক কন্যা এবং ৫ বছরের আরেক কন্যাকে নিয়ে পথে এসে বসেন বছর ৩০ এর এই মহিলা। তবে, ছোট দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সে সিদ্ধান্ত নেয়, কোনোভাবেই বাস্তবতার এই লড়াইয়ে পিছিয়ে যাবে না। এরপরই আশ্রয় পেলকুজোতের এক ভাড়া বাড়িতে।

- Advertisement -

সংসার চালানোর জন্য যোগ সে রাজমিস্ত্রীর কাজে যোগ দেয়। তবে, সাথির এই লড়াই সহজ ছিল না। বছর দুই পরে কাজ বন্ধ হতেই, ফের একবার কর্মহীন হয়ে পড়ে এই মহিলা। বাড়ি বাড়ি শাক বিক্রির সঙ্গে সেই কর্মহীন হয়ে পড়ার সময়টাই সাথির জীবনে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। সে সময়ের ভাড়া বাড়ি মালিক শাক বিক্রির এই বুদ্ধি দেন। তবে বুদ্ধি পেলেও কাজটা সহজ হয়নি। ভোর সাড়ে তিনটের সময় লিউসিপাকড়িতে শাক কিনতে গিয়ে তা বুঝতে পারেন সাথি। তবে, মনের সেই সাহসের কাছে গত ২ বছর ধরে ভোর রাতে একা সবজি আনতে যাওয়ার ভয়টা সাথির কাছে অনেকটাই ক্ষীণ। প্রতিদিন লিউসিপাকড়ি থেকে শাক নিয়ে আসতে মাঝেমধ্যেই ভয় লাগার কথা জানালেও, মেয়ের বড়ো করার স্বপ্ন নিয়ে সে লড়ে চলেছে।

গত ২ বছর ধরে পুরনিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতিনগরে বাড়ি ভাড়া করে চলা সাথির লড়াইয়ের কথা ২৫ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশের পরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের বিষয়টি নজরে আসে। লকডাউন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধের জেরে লড়াই আরও কঠিন হয়ে যায়। তবে, হার না মানা লড়াকু সাথির এই যুদ্ধকে কুর্নিশ জানিয়ে, তাঁকে সম্মান জানাতে বাড়িতে যোগাযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির একাংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর লড়াই কিছুটা সহজ করার পাশাপাশি, তাঁর এই লড়াইয়ে পাশে থাকার বার্তা দিল শিলিগুড়ি ইউনিক ফাউন্ডেশন টিম। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও।

দুই মেয়ের পড়াশোনা সংক্রান্ত কোনোরকমে সমস্যায় পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে ওই সংগঠন। অন্যদিকে, উত্তরের স্পন্দন নামেও একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সাথির সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা স্বরুপ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের কাছ থেকে পাশে থাকার বার্তা পেয়ে রীতিমতন আপ্লুত সাথি। সাথি জানিয়েছে, এভাবে যে কেউ আমার পাশে এগিয়ে আসবে, সেটা সত্যি কথা বলতে ভাবতে পারিনি। সবার কাছে আমি কিন্তু কৃতজ্ঞ থেকে গেলাম।