ফালাকাটার তৃণমূলের নেতারাও যোগাযোগ করছে, এখন স্ক্রুটিনি চলছে: সায়ন্তন

489
ফালাকাটায় বিজেপির র‍্যালিতে সায়ন্তন বসু

ফালাকাটা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে ফালাকাটায় শক্তি প্রদর্শন করল বিজেপি। শনিবার বিজেপির একাধিক কর্মসূচিতে ফালাকাটায় উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বিদ্যুতের বিল বয়কটের ডাক দিয়ে এদিন বিতর্কে জড়িয়েছেন।

সায়ন্তন বসুর দাবি, মিটার রিডিং ছাড়াই ভুয়ো বিদ্যুতের বিল নিচ্ছে রাজ্য সরকার। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজ্যবাসীকে বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে না। এক্ষেত্রে কারও বাড়িতে বিদ্যুতের লাইন কাটতে গেলে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের আঙুল ঠিক থাকবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

- Advertisement -

সায়ন্তন আরও দাবি করেন, ফালাকাটায় তৃণমূলের অনেক নেতাই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সেই তালিকা স্ক্রুটিনি করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজেপির জয় নিশ্চিত বলেও তিনি জানিয়েছেন। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি নেতার এইসব দাবিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। অন্য কোনও রাজ্যে বিজেপির সরকার বিদ্যুৎ বিল মুকুব করেছে কি না, তা নিয়ে পালটা প্রশ্ন ছুঁড়েছেন তৃণমূলের নেতারা। তবে সায়ন্তনের বিদ্যুৎ বিল বয়কটের ডাক কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, ফালাকাটায় প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল ধরে নিয়েই ঘুঁটি সাজিয়েছে বিজেপি। এখানে তৃণমূলের দক্ষ ও প্রবীণ নেতারা জীবিত নেই। শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দলও প্রকাশ্যে এসেছে। এই সুযোগে চলতি মাসে বিজেপি একাধিক কর্মসূচির তালিকা প্রস্তুত করে ময়দানে নেমেছে। এদিন সায়ন্তন বসুর উপস্থিতিতে শহরের কয়েকটি বাড়িতে গৃহ সম্পর্ক অভিযান করে পদ্ম শিবির। এরপর নেতাজি রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে র‍্যালি বের হয়। নতুন চৌপথি হয়ে বিদ্যুৎ বণ্টন পর্ষদের অফিসের সামনে এসে ওই র‍্যালি শেষ হয়। সেখানে ট্রাকে দাঁড়িয়েই পথসভায় বক্তব্য রাখেন সায়ন্তনবাবু। জনসমর্থন আদায়ে এদিন বিজেপির নিশানায় ছিল রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তর।

বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের বিল মুকুব নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের মানুষের প্রতি মমতা দেখাতে পারেননি। তাই সামনেই ফালাকাটার মানুষ এই সরকারকে সঠিক জবাব দেবে।’ অনেকটা সুর চড়িয়ে সায়ন্তন বসু বলেন, ‘বিদ্যুতের বিল নিয়ে রাজ্য সরকার প্রতারণা করছে। মিটার রিডিং ছাড়াই বাড়তি বিলের বোঝা চাপানো হচ্ছে।’ সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আগামী তিনমাস আপনারা বিদ্যুৎ বিল বয়কট করুন। বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসলে সঠিকভাবে মিটার রিডিং নেওয়া হবে। আর এতদিনের ভুয়ো বিল মুকুব করা হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা কারও বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ কাটতে গেলে তার আঙুল ঠিক থাকবে না।’

আগামী সোমবার দলের যুব মোর্চার উত্তরকন্যা অভিযান রয়েছে। সেই কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মীদের যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন সায়ন্তনবাবু। এদিন ফালাকাটায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা, জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন, দুই জেলা সহ সভাপতি নারায়ণ মণ্ডল, ভূষণ মোদক প্রমুখ। পুলিশি নিরাপত্তাও ছিল কঠোর। তবে কোনও বিশৃঙ্খলা হয়নি।

এদিকে, ফালাকাটায় তৃণমূলের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সায়ন্তন বসু বলেন, ‘এখানকার অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এখন তাদের স্ক্রুটিনি করা হচ্ছে।’ এই কেন্দ্রে জেতার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট আশাবাদী গেরুয়া শিবির। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই কেন্দ্রে তৃণমূলের থেকে ২৭ হাজার ভোট বেশি পেয়েছিল। সায়ন্তনের দাবি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ফালাকাটায় বিজেপি ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতবে। তবে বিজেপি ও আরএসএসের নেতারাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে পালটা দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘এখানে তৃণমূলের কেউ বিজেপিতে যাবে না। বরং বিজেপি ও আরএসএসের অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আর ফালাকাটাতে আমরাও এবার ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতব।’ বিদ্যুৎ বিল বয়কটের ডাক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। অন্য রাজ্যে বিজেপির সরকার বিদ্যুৎ বিল মুকুব করেনি। বরং এ রাজ্যের সরকারই বিদ্যুতের ক্ষেত্রে দরিদ্র মানুষকে অনেক ছাড় দিয়েছে।’