দশজনে খেলেও ড্র এসসি ইস্টবেঙ্গলের

173

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়: একটা ম্যাচ জিতেই ফের ড্র-য়ে ফিরে এল এসসি ইস্টবেঙ্গল। ১০ জনে খেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ৯ নম্বরে উঠে আসাটাই সম্ভবত এই ম্যাচের একমাত্র প্রাপ্তি। এফসি গোয়া ফের একবার গোল খেয়ে ম্যাচ ড্র করে তিন নম্বরেই থেকে গেল।

এফসি গোয়ার খেলার মধ্যে ধারাবাহিক একটা বিশেষ দর্শন ধরে চলার একটা চেষ্টা প্রতি ম্যাচেই নজরে পড়েছে। সবথেকে বেশি যেটা চোখে পড়ে, সেটা হল আত্মবিশ্বাস। বিশেষকরে এসসি ইস্টবেঙ্গলের মতো দলের বিরুদ্ধে নিজেদের উপর বাড়তি আস্থা যে রাখাই যায়, সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন এডু বেদিয়া, জেমস ডোনাচিরা। যে দলের মাত্র ৩২ থেকে ৩৪ শতাংশে বল পজেশন ঘোরাঘুরি করে, তাদের বিরুদ্ধে সাহসী হতে অসুবিধা কোথায়! দূর্ভাগ্য তিলক ময়দানের ছোট মাঠে গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি এফসি গোয়া। পেল তখন, যখন ব্রাইটের গোলে এগিয়ে এসসি ইস্টবেঙ্গল। ৮০ মিনিটে এসসি ইস্টবেঙ্গলের গোলটা কিন্তু জাঁক মাঘোমার সঙ্গে ব্রাইট এনুবাখারের দূর্দান্ত বোঝাপড়ার ফসল। ৫৬ মিনিটে ড্যানি ফক্সের লাল কার্ড দেখার পরেই বাড়তি সাহস দেখালেন লাল-হলুদ জার্সিধারীরা। তবে এদিন রবি ফাওলারের দল সাজানও কিন্তু প্রথমার্ধে কিছুটা সুবিধা করে দেয় জুয়ান ফেরান্দোর দলকে। তিনি হঠাৎই একসঙ্গে তোম্বা, জাইরু, রফিকদের মতো গত দু-তিন ম্যাচে ভালো খেলা ভারতীয়দের সঙ্গে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জাঁক মাঘোমা ও অ্যান্থনি পিলকনটনের মতো যাঁদের উপর দলটা ভরসা করে দাঁড়িয়ে তাঁদেরও বসিয়ে দিয়ে জায়গা করে দিলেন নারায়ণ, অঙ্কিত, হরমনপ্রীত, ব্রাইট ও অ্যারন হলওয়েকে। পরে ড্যানি ফক্সের লাল কার্ড দেখার পর তাগিদ চোখে পড়েছে ও মাঘোমা নামায় খেলা ঘোরে।

- Advertisement -

পিলকনটন না থাকায় মাঝমাঠ বলে কিছুই ছিল না ইস্টবেঙ্গলের। আগেরদিন গোল করলেও এদিন গোলটা ছাড়া সেভাবে চোখে পড়েননি ব্রাইট। হলওয়েকে বিচ্ছিন্নভাবে চোখে পড়েছে। কিন্তু কেন হরমনপ্রীত? মাত্র ৫ মিনিটে লাল-হলুদ সমর্থকদের স্বস্তি দিয়ে ব্রেন্ডনের ফ্রি কিক থেকে ডোনাচির হেড বাঁচান দেবজিৎ। একইভাবে ৩৮ মিনিটে সেভিও গামার দূর থেকে নেওয়া শট গোলে ঢোকার মুখে ফের ঢাল হন ওই দেবজিতই। মাঝে যে কতবার যে হাট করে খোলা ডিফেন্স পরীক্ষা করে গেলেন ডোনাচি, প্রিন্সটন, আঙ্গুলো, ওর্তিজরা, তার কোনও ইয়ত্ত্বা নেই। যা বাঁচানোর কৃতিত্ব একা ওই সেভজিতেরই। সর্বক্ষণ আঙ্গুলোকে ঘিরে ধরতে গিয়ে বাকিরা কামান দেগে গেলেন। আর সেইকারণেই গোল করেও এক মিনিটের মধ্যে ১-১ হয়ে যাওয়া। গামার ক্রস থেকে পরিবর্ত দেবেন্দ্র মুরগাঁওকারের হেড কোনওরকম বাধা ছাড়াই গোলে যায়। গোলের আগে ইস্টবেঙ্গল যে একেবারেই সুযোগ পায়নি, তা নয়।

প্রথমার্ধে অন্তত দুটি ক্ষেত্রে হলওয়ের হেডটা আরও ঠিকঠাক হলে খেলার বিপরীতে ফল হতেই পারত। তেমনি বিরতির পর স্টেইনম্যানও একটা সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। এই পর্বে প্রচুর কর্ণার পেয়ে অবশ্য কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ৫৬ মিনিটে ফক্সের লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। রোমারিও স্লাইডিং ট্যাকল করতে গিয়ে পায়ের উপর পড়ে গেলে রেফারি রোয়ান লাল কার্ড দেখান লাল-হলুদ অধিনায়ককে। তবে মনে হয়েছে হলুদ কার্ড দেখিয়েও ছেড়ে দেওয়া যেত।

এসসি ইস্টবেঙ্গল: দেবজিৎ, অঙ্কিত, রাজু, ফক্স, নেভিল, মিলন(সুরচন্দ্র), স্টেইনম্যান, অ্যারন (মাঘোমা), নারায়ন, হরমনপ্রীত ও ব্রাইট (রফিক)।
এফসি গোয়া: মহম্মদ নওয়াজ, শেরিটন, ডোনাচি (আইবান), প্রিন্সটন (ইশান পন্ডিতা), গামা, ব্রেন্ডন (আলবার্তো), বেদিয়া, ইভান গঞ্জালেজ, রোমারিও (দেবেন্দ্র), ওর্তিজ ও আঙ্গুলো।