রক্ষণের ভরাডুবি, ফের হার লাল-হলুদের

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, মারগাঁও : অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি।

গানের কলির সঙ্গে একসূত্রে বেঁধে ফেলা যায় খালিদ জামিল আর ইস্টবেঙ্গলকে।

- Advertisement -

ফ্ল্যাশব্যাকে খুব বেশি পিছনে যাওয়ার দরকার নেই। সময়টা ২০১৮-র শীতের সায়াহ্ন। আই লিগে জোড়া ডার্বি হেরে লিগ টেবিলে কোণঠাসা লাল-হলুদ। কোণঠাসা সেদিনের ইস্টবেঙ্গল কোচ খালিদ জামিলও। আইজলকে আই লিগ জিতিয়ে কলকাতায় পা রেখেছিলেন। মরশুমের শেষে সেই খালিদের কপালে শুধুই তুকতাক কোচের তকমা।

তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। সেই খালিদ আজকের নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের হেডস্যর। মরশুমের মাঝপথে দলের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ভেলকি দেখিয়েছেন। তাঁর জাদুস্পর্শে একটার পর একটা চমক দিয়ে প্লে অফের দৌড়ে প্রবলভাবে ঢুকে পড়েছে জন আব্রাহামের দল। মঙ্গলবারের ফতোরদাও যে তার ব্যতিক্রম নয়, ম্যাচের স্কোরলাইন তাই বলে দিচ্ছে।

আর ইস্টবেঙ্গল? আইএসএলে নতুন মোড়কে আবির্ভূত হলেও ব্যর্থতার অভিশাপ যেন পিছু ছাড়েনি লাল-হলুদের। ডার্বির হারের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে গেল এদিনের হার। ভিলেন সেই কুখ্যাত রক্ষণ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সার্থককে সঙ্গী করে গোল করে গেলেন ইস্টবেঙ্গলে খেলে যাওয়া ভিপি সুহের। পরের গোল সেই সার্থকের শিক্ষানবিশি ভুলে। ৭১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে রাজু গায়কোয়াড় বেরিয়ে যেতে আরও চওড়া হল লাল-হলুদ রক্ষণের শ্রীহীন দশা। খেলা শেষের মিনিট কয়েক আগে সার্থকের গোল পরিশোধ সান্ত্বনা পুরস্কার। সঙ্গে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত।

লিগের শেষপ্রান্তে এসে তাই প্রাপ্তির চেয়ে শূন্যতাই বেশি এসসি ইস্টবেঙ্গলে।

সেই খেদটাই ঝরে পড়ছিল মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের গলায়। লাল-হলুদের ঘরের ছেলে বলছিলেন, দলটার তো গোড়াতেই গলদ। টিমটা তো ঠিকঠাক তৈরি হয়নি। ফলে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তার মধ্যেও বলব ইস্টবেঙ্গল খুব খারাপ খেলেনি। প্রথম বছরে অন্তত এর চেয়ে ভালো পারফরমেন্স আমি আশা করিনি। মশাল জনতার মনা ঘোর বাস্তববাদী, তার মুখে একথা মানায়। কিন্তু সমর্থকেরা? আবেগ, স্বপ্নকে ঘিরে বেঁচে থাকা মানুষগুলি নিজেদের শান্ত করবেন কি করে!

লাল-হলুদ জার্সির একটা ইতিহাস রয়েছে। আবেগ আছে। ফাওলার তো কলকাতার ফুটবল আবেগটাই বুঝতে পারলেন না। ম্যাচের আগে বলছিলেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। কথাটা কতটা খাঁটি। তা ম্যাচের ফলাফলে প্রমাণিত। ডার্বি হারের জ্বালা ভুলতে মানরক্ষার জয় দরকার ছিল এসসি ইস্টবেঙ্গলের। সেখানে প্রথম দলে আট পরিবর্তনের পরীক্ষা নিরীক্ষায় বিপদ ডেকে আনলেন ফাওলার। ব্রাইট এনুবাখারে, অ্যান্থনি পিলকিনটনদের বদলে যারা সুযোগ পেলেন সেই অ্যারন আমাদি হলওয়ে কিংবা জেজে লালপেখলুয়া ভাগ্যবদলের থেকে লজ্জা উপহার দিলেন আরও বেশি করে। ম্যাচের পর যা নিয়ে মনোরঞ্জনের মতো আর লাল-হলুদের আর এক ঘরের ছেলে তরুণ দে-র আক্ষেপ, ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখি না। দেখার ইচ্ছাটাই চলে গিয়েছে।

মনোরঞ্জন, তরুণ দে-র মতোই মনের অবস্থা সৌমিক দে-র। ফোনের ও প্রান্তে গর্জনের মতো শোনাল তাঁর গলা, এই ইস্টবেঙ্গলের শুরু থেকে শেষ শুধুই ব্যর্থতা। যত কম বলা যায় তত ভালো। নিজে রক্ষণের ফুটবলার ছিলেন। তাই দলের রোগটাও ভালো বুঝতে পারছেন। সৌমিকের কথায়, ফক্স, নেভিলের চেয়ে অনেক ভালো বিদেশি লাল-হলুদ জার্সিতে খেলে গিয়েছেন। এমন মানের বিদেশি থাকলে ভরাডুবি হবে। তাই হয়েছে।

ভরাডুবি। আক্ষেপ। হতাশা। আইএসএলের গোধূলি লগ্নে মশালের নীচে শুধুই জমাট বাঁধা অন্ধকার।