হাফ ডজনের লজ্জায় লিগ শেষ ইস্টবেঙ্গলের

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, বাম্বোলিম : ভালোয় ভালোয় পরিসমাপ্তি। মরশুমের শেষ ম্যাচে এইটুকুই প্রার্থনা ছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের। ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্যকিছু শুনেছিলেন!

জয় নয়, হাফডজন গোলের লজ্জা নিয়ে আইএসএলে অভিযান শেষ করল এসসি ইস্টবেঙ্গল। গোটা ম্যাচে ১১ গোল। ফলাফল ৬-৫! ম্যাচের স্কোরলাইন দেখলে ফুটবল না টেনিস সেটের ফলাফল গুলিয়ে যেতে বাধ্য। আইএসএলের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ভারতীয় ফুটবলে এমন ঘটনা বিরল। তবে সেই চমকের মধ্যেও শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গলের ছয় গোল হজম নিঃসন্দেহে মাটিতে মিশিয়ে দেবে লাল-হলুদ জার্সির অতীত গৌরবকে।

- Advertisement -

টানটান প্রথমার্ধে তিন তিনটে গোল। ২-১-এ এগিয়ে যাওয়ার সময়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠছিল হাসিখুশি লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখগুলি। তখনও জানতেন না কী লজ্জা অপেক্ষা করছে দ্বিতীয়ার্ধে। পরের ৪৫ মিনিট শুরু হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ফাওলারবাহিনী। সৌজন্যে লাল-হলুদের কুখ্যাত রক্ষণ।

আগের ম্যাচে যে দল মুম্বইয়ে কাছে ৬ গোল হজম করেছিল এদিন সেই ওডিশার কাছেই অসহায় আত্মসমর্পণ করল লাল-হলুদ। তবে বিপর্যয়ের সলতে পাকানো হয়তো শুরু হয়েছিল কোচ ফাওলারের হাতে। লিগের শুরু থেকে নিজের দলকে আই লিগ স্কোয়াড বলে হেয় করেছেন, মনোবলটা ওখানেই ভেঙে গিয়েছিল ফুটবলারদের। ওডিশা ম্যাচের আগে সমর্থকদের অতি-প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু বিতর্কের জন্ম দিতে ব্যস্ত ব্রিটিশ কোচ ভুলে গিয়েছিলেন নিজের কাজটাই। শনিবার জাঁক মাঘোমাদের কুৎসিত ফুটবলে যেন তারই নির্মম ছবি।

লিগের শুরু থেকে গোলহজমের ভূত ঘাড়ে চেপেছিল, শেষে এসেও তা পিছু ছাড়েনি লাল-হলুদের। শুরুতে পিলকিনটনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরেও অশনিসংকেতের শুরু। লালরিনজুয়ালার গোলে ভাঙনের শুরু। পল, জেরিরা দূরপাল্লার শটে কাঁপিয়ে দিলেন শ্লথ হয়ে পড়া ফক্সদের সাজানো রক্ষণ। দায় এড়াতে পারেন না এসসি ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক সুব্রত পাল। দুটি ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে থেকে গোলহজম করলেন তিনি। জেরির গোলের পরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল লাল-হলুদ ডিফেন্স। এর মধ্যে প্রাপ্তি একটাই গোটা ম্যাচে ৬টি গোল এল ভারতীয়দের পা থেকে। যার মধ্যে পাঁচটি ওডিশার ফুটবলারদের সৌজন্যে।

সবমিলিয়ে লজ্জায় মাথা হেঁট লাল-হলুদ সমর্থকদের।