ঝলমলে ব্রাইটেও শেষপর্যন্ত ফিকে লাল-হলুদ

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : গ্যালারিতে বসে ব্রাইট এনুবাখারের গোলের পর রবি ফাওলারের হাততালির দৃশ্যটা বড়ই প্রতীকি লাগে। দলের মধ্যে থেকেও তিনি যেন কত দূরে! তবে পিকচার আভি বাকি হ্যায় মতোই এখন আইএসএলের সব ম্যাচের ক্লাইমেক্স লেখা হচ্ছে সংযুক্তি সময়ে। এদিনও তার অন্যথা হল না। হায়দরাবাদ ১-১ করলো ৯৩ মিনিটে।

 

- Advertisement -

তরুন ফুটবলার সমৃদ্ধ হায়দরাবাদের খেলা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু সবসময়ই যে সেই খেলা কার্যকরি হবে তার কোনও মানে নেই। কারণ এই ফুটবলে আবেগ অনেক বেশি, বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার মিশেল কম। ফলে আরিদানে সানতানার খেলা তৈরির অনেক প্রচেষ্টাই বিফলে য়ায় সময় সময়ে। তবু প্রথম আধ ঘন্টায় গোটা দুয়েক সুযোগ পেয়ে যাওয়া এবং প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার কারণ এই স্প্যানিশই। ব্যান্ড মাষ্টারের মতো আকাশ-আশিস-লিস্টনদের খেলান তিনি।

শুরুতেই সুযোগগুলো গোলে পরিণত না হওয়ার কারণ যদি তাঁর দলের তরুন বাহিনীর ব্যর্থতা হয় তাহলে অবশ্যই কৃতিত্ব সুব্রত এবং লাল-হলুদ ডিফেন্সের। তবে তিনি যে সত্যিকারের বড় মাপের ফুটবলার তার প্রমান দিলেন ৯১ মিনিটে। হার না মানা মনোভাব এবং কোচের গোটা তিনেক পরিবর্তনেই যখন ম্যাচটা ইস্টবেঙ্গলের বলে মনে হচ্ছিল তখনই ১-১ করে ফেলেন আরিদানে। রোহিত দানো থেকে সানডাজা তাঁকে বলটা দিয়েছিলেন।

তবে এটা ঘটনা, রাজু-সার্থক-সৌরভরা এসে ডিফেন্সটা অনেকবেশি আঁটোসাটো করে ফেলেছেন। হয়ত সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই এখন অনেকটাই উন্নতমানের দেখাচ্ছে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে। বিশেষকরে ব্রাইট এনুবাখারের সংযুক্তির পর থেকেই উত্থান শুরু দলটার মধ্যে। যদিও নাইজেরীয় স্ট্রাইকারকে অবশ্য অনেকটাই পড়ে ফেলেছেন বাকি কোচেরা। তবু তিনিই তৎপরতা দেখিয়ে গোলটা পেলেন ৫৯ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পিলকিনটন বলটা ব্রাইটকে তুলে দিলে তাঁকে তাড়া করে ধরতে পারেননি চিঙ্গলেসানা-ওডেইরা। প্রচন্ড গতিতে প্রতিপক্ষ বক্সে পৌঁছে আগুয়ান কাট্টিমানিকে কাটিয়ে বল গোলে ঠেলে দিয়ে বুঝিয়ে দেন, কেন তিনি আসায় দলটার মধ্যে এত পরিবর্তন।

তার আগে ৪০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম ঠিকঠাক সুযোগ। অঙ্কিত মুখোপাধ্যায় একাই বলটা টেনে নিয়ে শট নিলে কাট্টিমনি বাঁচান, ফিরতি বলে ফের অঙ্কিতের হেড। হাতে যায় হায়দরাবাদ গোলরক্ষকের। একটু তৎপর হলে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা অ্যান্থনি পিলকিনটন হয়ত বলটা গোলে ঠেলতে পারতেন। এদিনের পর ১৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গল লিগ তালিকায় নয় নম্বরেই থাকল। কিন্তু কাজটা কিছুটা কঠিন হল হায়দরাবাদ এফসির। খুব ক্ষীণ হলেও হঠাৎই প্লে অফের লড়াইয়ে থাকল এসসি ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির আগে নিজেদের খেলা দিয়ে কিন্তু ১৯ তারিখের মহারণের জন্য যে তারা তৈরি সেকথাও বোঝালেন ব্রাইটরা।