সুন্দর ফুটবলেও জয় অধরা এসসি ইস্টবেঙ্গলের

কলকাতা: কাঙ্খিত জয় হয়ত এল না। কিন্তু ফের একবার মনে রাখার মতো ম্যাচ খেললো এসসি ইস্টবেঙ্গল। ফতোরদায় এফসি গোয়ার প্রেসিং ফুটবলের সামনে লাল-হলুদের গোছান ফুটবল মনের তৃপ্তি দেয়। ১-১ হওয়া ম্যাচে অবশ্য পাওয় গেল প্রচুর নাটকীয় উপাদান।

মাত্র ৩০ সেকেন্ডে পেনাল্টি প্রাপ্তি। নারায়নকে হালকা ট্রিপ করেছিলেন মহম্মদ আলি। রেফারি হরিশ কুন্ডু দুবার ভাবেননি। বল বসালেন অ্যান্থনি পিলকিনটন। এই প্রথমবার এফসি গোয়ার বারের নীচে ধীরাজ সিং। ভারতের বিশ্বকাপার গোলরক্ষক ঝাঁপালেন ঠিক উলটোদিকে। অথচ বলটা গোলে না ঢুকে সোজা ডানদিক থেকে চলে গেল বাইরে। প্রথম মিনিটেই এতসব ঘটনার ঘনঘটার পরে ম্যাচটা অন্য উচ্চতায় উঠবে বলেই মনে হচ্ছিল। উচ্চতা না হলেও উত্তেজনায় কোনো কমতি ছিল না।

- Advertisement -

গোয়া-বাংলার ফুটবল মানেই বোধহয় লাল কার্ডও থাকবেই। এবার দেখলেন এডু বেদিয়া। এগিয়ে থাকা অবস্থায গোলটা খেয়ে মাথা গরম করে ফেলার জন্য। ৬৫ মিনিটে অ্যান্থনি পিলকিনটনের কর্নারটা হাতে ধরে রাখতে পারেননি ধীরাজ। একেবারে সামনেই দাঁড়িযে ছিলেন ড্যানি ফক্স। কৃতজ্ঞচিত্তে ঠেলে দেন গোলে। ৯ বছর আগে শেষবার গোল করেছিলেন লাল-হলুদ অধিনায়ক। এরপর ম্যাচ জুড়ে শুধু ইস্টবেঙ্গল। দশজনের গোয়া খাবি খেল এই পর্যায়ে।

এদিন দুই কোচই একাধিক স্ট্রাইকার নামিয়ে দেন অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্সের মানসিকতা নিয়ে। বিভিন্ন কারনে এফসি গোয়ার ইভান গঞ্জালেজ, জেমস ডোনাচি, শেরিটন ফার্নান্ডেজরা না থাকায় অনভিজ্ঞতা একটা বড়ো সমস্যা ছিলই। তবে অঙ্কিত-রাজুরা না থাকায় ফাওলারের চিন্তা ছিল কি না সেটা বোঝা যায়নি প্রতিপক্ষের একাধিক ভুলে। যদিও দ্রুত রফিককে বসিয়ে অঙ্কিতকে নামিয়ে দেন তিনি। এফসি গোয়ার ডিফেন্স সারা ম্যাচে হাটখোলা হয়ে থাকল।

১৯ মিনিটে যেমন ব্রাইট তাঁর বড়ো শরীরটা নিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে যে ক্রশটা রাখলেন তার ফ্লাইট মিস করে গেলেন ধীরাজ। জেজে আরও একটু তৎপর হলে তখনই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এর পর টানা মিনিট তিনেক বারবার হানা দিলেন পিলকনটন, নারায়ন, মহম্মদ রফিকরা। খেলার মধ্যে না থাকায় ধীরজ গোলটা খাওয়া ছাড়াও ক্রমাগত ভুল করে গেলেন। একবারই শুধু পরিবর্ত হরমনপ্রীতের শট দূর্দান্ত বাঁচাতে দেখা গেল তাঁকে। একই অবস্থা আদিল-আইবান-মহম্মদ আলিদেরও। ১-১ হওয়ার পরে তো আরও গুটিয়ে গেল এফসি গোয়া।

বিচ্ছিন্নভাবে আক্রমনে উঠেছেন আঙ্গুলো-ওর্টিজ-বেদিয়ারাও। কিন্তু তাঁদের যাবতীয় চেষ্টা প্রতিহত করতে যথারীতি তৎপর ছিলেন দেবজিৎ মজুমদার। তাঁর সেভ করার রেকর্ড এবার সম্ভবত কেউ ভাঙ্গতে পারবেন না। তবু গোলটা তাঁকে খেতেই হল নিজেদেরই ভুলে। মাঘোমা মাঝমাঠে আলবার্তো নগুয়েরার পাসটা ব্লক করতে না পারায় পেয়ে গেলেন ইগর আঙ্গুলো। তখন উঠে গোলের নেশায় উঠে গিয়েছে গোটা ডিফেন্স।
ফলে আঙ্গুলোকে তাড়া করেও নাগাল পাওয়া সম্ভব ছিল না একা রানা ঘরামির। আগুয়ান দেবজিৎকে কাটিয়ে বল জালে পাঠাতে কোনও ভুল হয়নি আঙ্গুলোর। লিগে নিজের ১০ নম্বর গোলটা করে ফেললেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগানোয় তাঁর ধারেকাছে বোধহয় এবার আর কোনও স্ট্রাইকার নেই। শেষদিকে নামলেও কিছু করার সুযোগ পেলেন না ঈশান পন্ডিতা।