ছন্দে এসসি ইস্টবেঙ্গল, স্টেইনম্যানের গোলে দ্বিতীয় জয়

115

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ছন্দে ফিরছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। মূল স্কোয়াডে সামান্য অদল-বদল করতেই চেনা মেজাজে লাল-হলুদ বাহিনী। এদিন ফতোরদায় নিজেদের দ্বিতীয় জয পেয়ে গেল বেঙ্গালুরু এফসিকে স্টেইনম্যানের করা একমাত্র গোলে হারিয়ে। দশ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে অবশ্য লিগ তালিকার ৯ নম্বরেই থেকে গেলেন দেবজিৎরা। অন্যদিকে কোচ বদলেও জয়ে ফেরা হল না সুনীল ছেত্রীদের।

ম্যাচের আগে সকালেই মানসিকভাবে চাঙ্গা করার জন্য এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছে সুখবর চলে আসে। তুলে নেওয়া হয়েছে এক ম্যাচের সাসপেনশন, খেলতে পারবেন ড্যানি ফক্স। অধিনায়কের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতভাবেই শক্ত করে ডিফেন্সের ভিত। বিশেষকরে উদান্তা-সুনীলরাও যখন অফ ফর্মের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তখন ডিফেন্স শক্তপোক্ত থাকলে যে সামনে ব্রাইট বা মাঘোমারা নিশ্চিন্তে খেলতে পারেন, সেটা তো এদিন শুরু থেকেই দেখা গেল।

- Advertisement -

বেশ কয়েকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতির তৈরি করে দিলেন ব্রাইট একাই। আসলে এই নাইজেরীয়র বল নিয়ন্ত্রন ও ডজগুলো অনবদ্য। একইভাবে সেট পিসেও নিঁখুত। এদিন তাঁকে একটু পিছন থেকে খেলানোয় ব্রাইট নিজেদের খেলাটাকে নিয়ন্ত্রন করছিলেন একজন সঠিকঅর্থেই ব্যান্ড মাষ্টারের মতো। তাঁর প্রভাব এখন পড়তে শুরু করেছে দলের বাকিদের উপরেও। যার জন্য টুর্নামেন্টের শুরুরদিকের বিভ্রান্ত নারায়ণ দাশও এদিন দেখা দিলেন অন্য অবতারে। ৭ মিনিটে তাঁর বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট গুরপ্রীত কোনোক্রমে বাঁচালেও, ২০ মিনিটে নারায়ণের বক্সের মধ্যে দেওয়া নিঁখুত পাসটা দর্শনীয় ভঙ্গিতে গোলে ঠেলেন মাতি স্টেইনম্যান। নারায়ণকে ডানপ্রাপ্ত থেকে বলটা তুলেছিলেন অঙ্কিত। প্রাক্তন মোহনবাগানী আর নারায়ণ মিলে দুই প্রান্ত সচল রেখে দিলেন এদিন।

গোলে দেবজিৎ এদিনও দুর্দান্ত। আসলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াটা তাঁর জন্য খুব দরকার ছিল। যেটা তাঁকে রবি ফাওলার ও ববি মিমস দিতে পেরেছেন। এদিন গোটা দলের মধ্যেই একটা বাড়তি কিছু করে দেখানোর তাগিদ লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবু তো মাঘোমা পুরোপুরি ফিট নন, যা ম্যাচ গড়াতেই স্পষ্ট হয়েছে। ৭৮ বা ৮১ মিনিটে বেঙ্গালুরু ডিফেন্সের ভুলে পাওয়া বল থেকে অন্তত একটা গোল ব্রাইট পেয়ে যেতে পারতেন, গুরপ্রীত না থাকলে।

তবে সুনীল ছেত্রীদের দেখে কিন্তু যেকোনও ফুটবলপ্রেমীরই খারাপ লাগতে বাধ্য। ভারত অধিনায়ক বিচ্ছিন্নভাবে দু-একবার চেষ্টা করলেও নিজের অতীতের ছায়া এখন। নাহলে অঙ্কিতের মতো জুনিয়রের কাছে বল দখলের লড়াইয়ে বারবার পরাস্ত হন! তবু বিরতির ঠিক পরেই হুয়াননের সঙ্গে একটা ওয়াল খেলে যে শটটা নিয়েছিলেন সেটা গোলে না ঢোকার জন্য দেবজিতের প্রশংসা প্রাপ্য। একই কথা বলতে হবে, ৬১ মিনিটে নেওয়া হেডটার কথাও। দেবজিতের ওটা ছিল আইএসএলের ৩২ নম্বর সেভ। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ম্যাচের সেরা।

আসলে সুনীলদের সেই অপ্রতিরোধ্য দলটাই যেন ভেঙ্গে গিয়েছে। এক মিকু সরতেই যেন গোটা দলটা ভেঙেচুরে গিয়েছে। তাই কোচের সরে যাওয়া বা এরিক পার্তালুর সংযুক্তিতেও এল না কাঙ্খিত ফল। টানা চার ম্যাচে এর আগে ভারতীয ফুটবলে কখনও হারেনি বেঙ্গালুরু এফসি। এরকম পেশাদার একটা দলের এরকম পরিণতিতে খারাপ লাগা তৈরি হতে বাধ্য। কিন্তু একইসঙ্গে বোধহয় এটাও মনে করিযে দেয়, পেশাদারিত্বের সঙ্গে আবেগের সঠিক মেলবন্ধন না ঘটাতে পারলে শতাব্দীজুড়ে রাজত্ব করা যায় না। যা দেখিয়েছে বাংলার দুই প্রধান।