বাঙালিয়ানায় জয়ের মশাল জ্বলল এসসি ইস্টবেঙ্গলে

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, মারগাঁও : বঙ্গ রাজনীতির দৌলতে চল পাল্টাই স্লোগানের সঙ্গে এখন সুপরিচিত আমজনতা। ফতোরদায় এদিন এসসি ইস্টবেঙ্গলের খেলায় দেখা গেল সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া। পাঁচ ম্যাচ পর জয়ে ফিরল লাল-হলুদ। গ্যালারিতে বসেই সেই জয়ের মশাল জ্বলে ওঠার সাক্ষী থাকলেন নির্বাসিত রবি ফাওলার।

বেঙ্গালুরু এফসির কাছে ধরাশায়ী হওয়া দলে সঙ্গে এদিন জামশেদপুরের বিরুদ্ধে নামা ব্রাইট এনুবাখারেদের তফাত আকাশপাতাল। মানসিক দিক থেকে একইসঙ্গে পারফরমেন্সেও। কিন্তু কোন জাদুমন্ত্রে বদলে গেল লাল-হলুদ। চুম্বকে উঠে আসছে দুটি কারণ। প্রথমটি যদি হয় মাতি স্টেইনম্যানের দুরন্ত পারফরমেন্স তাহলে দ্বিতীয়টি অবশ্যই দলের বাঙালি সেন্টিমেন্ট। বহুদিন পর ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে প্রথম একাদশে দেখা গেল পাঁচ বাঙালিকে। সাম্প্রতিক কালের বিচারে যা বিরল দৃশ্য বলতেই হয়।

- Advertisement -

ওয়েন কোলের দলের বিরুদ্ধে জিততে গেলে গোলহজম করা চলবে না, সেই সারসত্য ভালোই বুঝতে পেরেছিলেন রবি ফাওলারের সহকারী টনি গ্র্যান্ট। নেরিজাস ভালস্কিসদের বিরুদ্ধে রক্ষণকে পোক্ত করে জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপানোর ব্লুপ্রিন্ট সাজিয়েছিলেন তিনি। এদিন ম্যাচে দলে ছটি পরিবর্তনের পিছনে বুদ্ধিদীপ্ত ছাপ স্পষ্ট।

গোলের নীচে দেবজি‌‌ মজুমদারের জায়গায় প্রথমবার মাঠে নামলেন সুব্রত পাল। প্রায় একদশক পর লাল-হলুদ গোলদুর্গের নীচে দাঁড়িয়ে ভরসাও জোগালেন সোদপুরের মিষ্টু। ম্যাচের সংযুক্ত সময়ে ভালস্কিসের বিষাক্ত হেড তিনি না বাঁচালে পুরো পয়েন্ট প্রাপ্তি অধরাই থাকত এসসি ইস্টবেঙ্গলের।

তবে স্কট নেভিলকে বসিয়ে রক্ষণে রাজু গায়কোয়াড় আর নতুন মুখ সার্থক গলুইকে খেলানোটাই মাস্টারস্ট্রোক এসসি ইস্টবেঙ্গলের টিম ম্যানেজমেন্টের। সারা মরশুম জুড়ে যে রক্ষণকে ছন্নছাড়া দেখাচ্ছিল, জামশেদপুর ম্যাচে তা যেন রকসলিড। অজয় ছেত্রী, মিলন সিংয়ের থেকে তিনি যে বেশি ভরসাদায়ক প্রথমবার লাল-হলুদ জার্সিতে বোঝালেন সৌরভ দাস। নজর কাড়লেন নারাযণও।

তবে আলাদা করে বলতেই হবে ম্যাচের সেরা হওয়া মাতি স্টেইনম্যানের কথা। মাঝমাঠের ঠিক নীচ থেকে ফ্রি প্লেযার হিসেবে তাঁকে ব্যবহার করলেন গ্র্যান্ট। ৬ মিনিটের মাথায় দলের প্রথম গোলটি এল জার্মান মিডফিল্ডারের হেডে। গোল করলেন এবং করালেনও। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮ মিনিটে অ্যান্থনি পিলকিনটনকে ঠিকানা লেখা পাস বাড়িয়েছিলেন। বল জালে রাখতে ভুল করেননি আইরিশ তারকা। ৭৯ মিনিটে শট গোলপোস্টে লেগে না ফিরলে দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যেতেন পিলকিনটন।

তবে ভাগ্যও এদিন প্রসন্ন ছিল জাঁক মাঘোমাদের পক্ষে। দ্বিতীযার্ধে ভালস্কিসের শট পোস্টে লেগে ফিরল। শেষের দিকে লাল-হলুদ রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে ব্যবধান কমালেন জামশেদপুরের পিটার হার্টলি (৮৩ মিনিট)। কিন্তু তাতে জয়ের ভাগ্য বদলায়নি লাল-হলুদের।