সমবায় সমিতির ঋণ কেলেঙ্কারি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নথি সহ অভিযোগ

283

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার মহিলা ঋণদান সমবায় সমিতির ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে ১৫০ পাতার অভিযোগ সহ প্রামাণ্য নথি গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কাছে। অভিযোগ পাঠানো হয়েছে  রাজ্যের সমবায়মন্ত্রীর কাছেও। সমিতির কয়েজন কর্মী ও তাঁদের পরিবার পরিজনদের নামে অবৈধ উপায়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগপত্রে সমিতির বেশ কয়েজন পদস্থ কর্মীর নাম রয়েছে। অভিযুক্তরা কীভাবে আইন ভেঙে নিজের এবং পরিবারের লোকদের নামে ঋণ নিয়েছেন, তার যাবতীয় নথিপত্র দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সমিতির একজন লোন ক্লার্কের নিজস্ব ও পরিবারের সদস্যদের ছটি ঋণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই ব্যক্তি সমিতির একজন অস্থায়ী কর্মী। তাঁকে তাঁর মাসিক বেতনের থেকে প্রায় ২০ গুণ বেশি টাকা ঋণ হিসাবে দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মীর ঋণের চুক্তিপত্রে জামিনদার হিসেবে এমন একজন রয়েছেন, যিনি নিজেই সমিতির ঋণগ্রহীতা। সমিতির ওই কর্মী নিজের মা, স্ত্রী, বৌদি, দিদি এবং এক নিকটাত্মীয়র নামেও সমিতি থেকে ঋণ তুলেছেন বলে অভিযোগ। ওই কর্মীর মায়ের নামে দুবছরের ব্যবধানে একই সার্চ রিপোর্টের উপর তিনবার পৃথকভাবে ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সেক্ষেত্রে একটি ঋণ শোধ না হতেই অন্য ঋণ দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মীর এক দিদি সমিতিতে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগ, কর্মীর অন্য এক দিদিকে কোনও পদ্ধতি না মেনেই জামিনদার বা সাক্ষীর স্বাক্ষর ছাড়াই ঋণ দেওয়া হয়েছে। সমিতির আরেক উচ্চপদস্থ কর্মী নিজের নামে সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছেন। ওই কর্মীর স্বামী একজন সরকারি কর্মী। সরকারি পদ্ধতি মেনে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট জমা না দিয়ে তাঁকে সমিতি থেকে মোটা টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, স্বামীর দপ্তরের শামুকতলার প্রাক্তন এক বিভাগীয় আধিকারিককেও সরকারি পদ্ধতি না মেনে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ছাড়াই ওই কর্মী দুলক্ষ টাকা লোন পাইয়ে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লেখা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামী ছাড়াও ওই কর্মী ব্যাংকে কর্মরত তাঁর দেওরের দপ্তরের এক আধিকারিককে মোটা টাকা ঋণ পাইয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওই কর্মীর ভাশুরের স্ত্রী, দিদি, ভাইয়ে নামও সমিতির ঋণগ্রহীতাদের তালিকায় আছে।

- Advertisement -

সমিতির শীর্ষস্থানীয় আরেক কর্মী নিজে তো ঋণ নিয়েছেনই, এছাড়াও দুই বোন, ভাগ্নিকেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই ঋণ পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এইসব কর্মী ছাড়াও সমিতির একাধিক অ্যাকাউন্ট ক্লার্ক, লোন ক্লার্ক, পাহারাদার, অফিস স্টাফ, ফিল্ড এজেন্ট, সাফাইওয়ালা সকলেই নিয়মবহির্ভূতভাবে সমিতি থেকে নিজেদের নামে মোটা টাকা ঋণ নিয়েছেন বলেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সেগুলো যে মিথ্যা নয়, তা বোঝাতে প্রত্যেকটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রামাণ্য নথি সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, সমিতির বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কর্মী এবং ফিল্ড এজেন্ট মিলিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন। একজন ফিল্ড এজেন্ট বলেন, আমরা প্রত্যন্ত গ্রামে ঘুরে ঘুরে মহিলাদের কাছ থেকে ফিক্সড ডিপোজিটের নামে টাকা তুলি। সেই টাকা সমিতিতে জমা হয়। তা থেকেই ঋণ দেওয়া হয়। মহিলাদের কষ্টার্জিত সেই টাকা অবৈধভাবে সমিতির কিছু কর্মীরাই লুট করছে। আর আমরা গ্রামে ঢুকতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পাঠিয়েছি। সমিতির প্রাক্তন এক উচ্চপদস্থ কর্মী বলেন, সমিতির কর্মীদের প্রত্যেকটি ঋণের নথি যাচাই করলেই বেআইনি কাজকর্ম জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই আমরা চাই সমিতির প্রতিটি কাজ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হোক। সমিতির চেয়ারপার্সন উপাসনা সেনগুপ্ত বলেন, জেলা শাসকের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে। রিপোর্ট জমা পড়লে তা দেখে পদক্ষেপ করা হবে।