কোচের সাপোর্ট পেয়ে ফুটছেন স্টেইনম্যান

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : পয়েন্ট তালিকার দিকে তাকালে মোটেই ভালো দেখাচ্ছে না তাদের অবস্থান। কিন্তু ডার্বির উত্তেজনার পারদ যথেষ্টই চড়া লাল-হলুদ শিবিরে। যে আবেগে ভাসতে শুরু করেছেন মাতি স্টেইনম্যানসহ বাকি বিদেশিরাও।

প্রতি দলেই কিছু ফুটবলার থাকেন, যাঁরা নিশব্দে অপরিহার্য হয়ে ওঠেন। অনেক তারকার ভিড়ে এসসি ইস্টবেঙ্গলে ক্রমশ সেই জায়গাটার এক নম্বর দাবিদার হয়ে উঠেছেন মাতি স্টেইনম্যান। বুন্দেশলিগা এবং জার্মানীর বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলা এই ফুটবলার মাঠে থাকলে ফুল ফোটে। স্ট্রাইকারদের ছাপিয়ে তিনিই দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখনও পর্যন্ত। ২৬ বছরের মাতি অবশ্য মানছেন পয়েন্টের হিসাবে তাদের তেমন একটা ভালো দেখাচ্ছে না।

- Advertisement -

তবে এটাও বলছেন, আরও ভালো জায়গায় থাকতে পারব, এমনটাই আশা করছি। জানি ১৭ ম্যাচের পর আমাদের অবস্থান তেমন ভালো নয়। কিন্তু আমরা যথেষ্ট ভালো খেলছি। আমরা নতুন একটা লিগে খেলছি, কত কিছু নতুনকরে শিখছি, এসবেরও একটা দাম আছে। শুরুর দিকে তাঁদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে বলেই কিছুটা সমস্যা হয় বলে জানান।

তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহ দুয়েক আমাদের কাছে কঠিন ছিল। এমনিতেই প্রথমবার দল আইএসএলে খেলছে। তার উপর প্রাক মরশুম প্রস্তুতিরও সময় কম পাওয়া গিয়েছে। তবে তারপর আমরা দ্রুত উন্নতি করেছি। আর এর জন্য তিনি কৃতিত্ব দেন কোচ রবি ফাওলারকে, কোচের প্রচুর অভিজ্ঞতা। ওঁর সময়ে অন্যতম সেরা ফুটবলার ছিলেন। এরকম একজনের অধীনে ট্রেনিং করতে পেরে নিজেকে দারুনভাবে তৈরি করতে পেরেছি।

এক মরশুমে চারটে গোল এর আগে কবে করেছেন নিজেই মনে করতে পারেন না তিনি। মাতি বলেন, হ্যামবুর্গের জুনিয়র দলে যখন খেলতাম তখন মনে হয় এতগুলো গোল করেছিলাম। কিন্তু এখানে কোচ আমাকে এগিয়ে খেলতে বলছেন। আসলে উনি যে স্বাধীনতাটা দিয়েছেন, সেটাই কাজে লাগছে। আরও গোল করে দলকে পয়েন্ট এনে দিতে পারলে খুশি হব।

মাতি মেনে নেন যে তাঁদের পক্ষে এই পর্যায়ে এসে আর প্লে অফে যাওয়ার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। তাঁর মন্তব্য, খুব কঠিন কাজটা। শুধু নিজেদের জয় নয়, অন্যদের দিকেও এখন তাকিয়ে থাকতে হবে। আপাতত অবশ্য এসব ভুলে ডার্বিতেই মনযোগী তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা। প্রথম ডার্বিতেই বুঝেছেন, সমর্থকদের আকাশ প্রমান চাহিদাটা।

সেই কথা মনে করেই মাতি বলেন, প্রথম ডার্বির আগে কলকাতার ছেলেদের কাছে শুনেছিলাম, কী প্রচন্ড উত্তেজনা তৈরি হয় এই ম্যাচটাকে ঘিরে। গ্যালারি কীভাবে রঙিন হয়ে ওঠে। সমর্থকরা পাশে থাকায় নিজেদের সেরাটা বার করে আনতে সুবিধা হয়। ভিডিও দেখেছিলাম কলকাতা ডার্বির। তবে এখনকার পরিস্থিতিতে সমর্থকদের পাশে পাচ্ছি না ঠিকই। কিন্তু ওদের জন্যই ম্যাচটা জিততে হবে।

তাঁর পরেই গোলের বিচারে এগিয়ে ব্রাইট এনুবাখারে। তিনিও লাজুক হেসে বলেন, সমর্থকরা গ্যালারিতে না থাকলেও আমাদের তাতিয়ে তুলছে এই ম্যাচটার জন্য। তাই ওদের জন্যই আমাদের ৩ পয়েন্ট পেতে হবে। তাঁর বা মাতির গোলে যদি মরশুমের শেষ ডার্বিটা জিতে যায় এসসি ইস্টবেঙ্গল, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সেটা হবে এবারের আইএসএলে দলের সবথেকে বড় প্রাপ্তি।