সোশ্যাল মিডিয়ায় সবুজ-মেরুনকে টেক্কা লাল-হলুদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে, স্যাটেলাইট আর কেবলের হাতে, ড্রয়িংরুমে রাখা বোকাবাক্সতে বন্দি…।

লকডাউনের পৃথিবী সেই বন্দিত্বকে আরও আপন করে নিয়েছে। বন্ধুত্বের সিঁড়ি গজিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আমজনতা বোকাবাক্স পেরিয়ে মুঠোফোনের আন্তর্জালে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে।

- Advertisement -

দরজায় কড়া নাড়ছে বড়ম্যাচ। ডার্বি মানেই ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ক্লাবতাঁবুতে লম্বা লাইন, টিকিটের হাহাকার। ব্ল্যাকারদের ইঙ্গিতপূর্ণ চাহনির হাতছানি, ইত্যাদি, ইত্যাদি। শুক্রবারের মহারণ নিয়ে এই সব আশু কল্পনা করছেন? তাহলে গোল্লা পাবেন!

লড়াই এখন শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার দেয়ালে। ৪৮ ঘণ্টা পর রয় কৃষ্ণা, মার্সেলিনহোরা মুখোমুখি ব্রাইট, নেভিলদের বিপক্ষে। তার আগে সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ দুই পক্ষ। আইএসএলের প্রথম সাক্ষাতে এটিকে মোহনবাগানের কাছে ধরাশাযী হয়েছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়বারের ডার্বি তাই বদলার মঞ্চ মশাল জনতার জন্য।

সলতে পাকানো শুরুও হয়ে গিয়েছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে টুইটার সোশ্যাল মিডিয়া এসসি ইস্টবেঙ্গল পেজ মানেই এখন লাল আর হলুদময়। ২০ বছর আগে ওমোলজার গোলে ডার্বি জয় থেকে সমর্থকের বাড়িতে টাঙানো ঢাউস ক্লাব পতাকা। কিংবা তুলসীদাস বলরামের গোলে ডার্বি জয়ের ইতিহাস থেকে বাবা-ছেলের জয়োল্লাস – প্রচারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে বেশ টেক্কাই দিচ্ছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির আঁচ লেগে গিয়েছে ফুটবলারদের মধ্যে। মহম্মদ রফিক, সুব্রত পালেরা তুলে ধরেছেন মহারণের মাহাত্ম্য।

দ্বৈরথে এটিকে মোহনবাগানও আছে। তবে কিছুটা গা বাঁচিয়ে। বড় ম্যাচে চোখ রাখুন, মহারাজের বার্তা চোখে পড়বেই। আর চোখে পড়বে আইএসএলের প্রথম ডার্বিতে বাগানের বাজিমাতের কিছু মুহূর্ত। এটিকে নিয়ে এমনিতেই মাথাব্যথা রয়েছে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের। হ্যাশট্যাগ ব্যবহার নিয়ে জল এর আগে অনেকদূর গড়িয়েছে। তাই সাবধানি বাগানের মিডিয়া টিম। সমর্থকদের মন রাখতে জয় মোহনবাগান আছে। তার বাইরে পুরোনো পরিসংখ্যান, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস খোঁজার চেষ্টা করা বৃথা।

তবে কথায় বলে ওস্তাদের মার শেষ বেলায়। তাই হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ায় গা না ভাসিয়ে লিগ টেবিলের ফাস্ট বয় মাঠেই ডার্বি জিততে চায়। এসসি ইস্টবেঙ্গল সহজে ছাড়বে? সব চোখ শুক্রবারে। ওই বোকাবাক্স আর সোশ্যাল দুনিয়ায়। খেলা হবে।