দুরন্ত সুনীলদের কাছে হার হতশ্রী ইস্টবেঙ্গলের

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, ভাস্কো : হোক না চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবু দেখানো পথে পা তো বাড়ানোই যায়।

রবিবার হাবাসের এটিকে মোহনবাগান করে দেখিয়েছিল। ০-২ পিছিয়ে পড়েও কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে সবুজ-মেরুনের দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী ছিল ভারতীয় ফুটবল। মঙ্গলবার তেমনই এক সন্ধ্যা অপেক্ষা করছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য। কিন্তু হল না! হাবাসের সবুজ-মেরুন হতে পারল না রবি ফাওলারের লাল-হলুদ।

- Advertisement -

 

মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু এফসির কাছে ২-০ গোলে হেরে গেলে এসসি ইস্টবেঙ্গল। শুধু হার নয়, সঙ্গে চলতি আইএসএলে প্লে অফের স্বপ্নেও কার্যত যবনিকা পড়ে গেল রবি ফাওলারের দলের।

টানা আট ম্যাচে জয়হীন বেঙ্গালুরু এফসি। আত্মবিশ্বাস তলানিতে থাকা দলটায় মঙ্গলবার ছিলেন না জুয়ানান, এরিক পার্তালুর মতো প্রথম দলের দুই বিদেশি। তারপরেও আহত সিংহের মতো মাঠে বিচরণ করলেন সুনীল ছেত্রীরা। তাদের উজ্জীবিত ফুটবলে লাল-হলুদের ব্রিটিশ কোচকে মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে টেক্কা দিয়ে গেলেন বেঙ্গালুরুর নৌশাদ মুসা।

ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় ক্লেইটন সিলভার বিশ্বমানের গোলটাই দুদলের মধ্যে তফাত গড়ে দিয়েছিল। লাল-হলুদ বক্সের সামনে থেকে বাঁ-পায়ের দূরপাল্লা শট নিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। দেবজিৎ মজুমদারদের চোখের পলক পড়ার আগেই তা জড়িয়ে যায় জালে। তবে প্রথম গোলের সঙ্গেই খোঁচাখাওয়া বাঘের মতো রক্তের স্বাদ পেয়ে গিয়েছিলেন সুনীল, উদান্তারা। প্রথমার্ধ জুড়ে তাঁদের দাপটের সামনে খাবি খেলেন ড্যানি ফক্স, স্কট নেভিলরা।

মরশুমের শুরু থেকে রক্ষণ সমস্যা মাথাব্যথা লাল-হলুদ কোচের। কমবেশি প্রতি ম্যাচে গোলহজম করেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। আইএসএলের দ্বিতীয পর্যায়ে এসেও ফক্স, নেভিলদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হল না, তার দায় বর্তায় ব্রিটিশ কোচের ঘাড়েও। বেঙ্গালুরুর দ্বিতীয় গোলও লাল-হলুদ রক্ষণের ত্রুটির ফসল। রাহুল ভেকের ক্রসের সময় নিজের জায়গায় ছিলেন না লাল-হলুদের সাইডব্যাক অঙ্কিত। প্রতিপক্ষ বক্সে অনেকটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে গোলমুখে শট রেখেছিলেন পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা পরাগ। বল পোস্ট লেগে ফিরলেও গোলরক্ষক দেবজিৎ মজুমদারের পায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে।

পরপর দুম্যাচে প্রতিপক্ষের থেকে ধারেভারে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ পকেটে পুরতে ব্যর্থ এসসি ইস্টবেঙ্গল। কেন? উঠে আসছে অনেক কারণ। লিগের মাঝপথেও এখনও সেট টিম তৈরি করতে পারলেন না ফাওলার। ফলে প্রতিম্যাচে প্রথম একাদশে পরিবর্তন চেনা দৃশ্য লাল-হলুদ শিবিরে। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মহম্মদ রফিক, বিকাশ জাইরুদের না খেলিয়ে প্রথম এগারোয় হরমনপ্রীত, আঙ্গুসানার মতো অনভিজ্ঞ ফুটবলারদের সুযোগ দিলেন। পাশাপাশি ব্রাইট নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার কোনও প্ল্যান বি এতদিনেও খুঁজে পেলেন না লিভারপুল গড। দ্বিতীয়ার্ধে পিলকিনটন, মাঘোমা নামায় আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ল। কিন্তু গোল এল না।

রেফারি শ্রীকৃষ্ণের কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কের উর্ধ্বে নয। প্রথমার্ধে স্টেইনম্যানকে ফাউল হোক কিংবা দ্বিতীয়ার্ধে মাঘোমাকে- শিশুসুলভ দৃষ্টিভঙ্গিতে তা এড়িয়ে গেলেন অভিজ্ঞ এই রেফারি। ফলে বারবার মেজাজ হারাতে দেখা গেল অ্যারন হলওয়ে, পিলকিনটনেদর।

তবে বাজে রেফারিংয়ের দোহাই দিয়ে ফাওলার বাহিনীর ব্যর্থতা আড়াল করার নয়। লাল-হলুদের যে গোড়ায় গলদ। এটিকে মোহনবাগানে একজন রয় কৃষ্ণা আছেন, এসসি ইস্টবেঙ্গলে তেমন পরিত্রাতা খুঁজতে দূরবীণ লাগতে পারে!