টাকা বরাদ্দের সাত বছর পরও তৈরি হয়নি স্কুল ভবন

323

মহম্মদ হাসিম, খড়িবাড়ি, ২৫ জুলাই : টাকা বরাদ্দ হওয়ার সাত বছর পরেও স্কুল ভবন তৈরি না করার অভিযোগ উঠেছে খড়িবাড়ি ব্লকের অন্তর্গত বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েছের বক্তারভিটা এলাকায়। বক্তারভিটা হিন্দি জুনিয়ার হাইস্কুলের ভবন তৈরির জন্য টাকা বরাদ্দ করা হলেও তা তৈরি হয়নি। ফলে সাত বছর ধরে সরস্বতী মেমোরিয়াল হিন্দি প্রাইমারি স্কুলের দুটি ক্লাসরুমে হিন্দি জুনিয়ার হাইস্কুলের পঠনপাঠন চলছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, জমিজটের জন্য স্কুল ভবন তৈরির কাজ শুরু করা যায়নি। বন দপ্তরকে বলা সত্ত্বেও জমিজট মেটেনি। প্রশাসনের তরফে জমিজটের বিষয়টি দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালে বক্তারভিটা হিন্দি জুনিয়ার হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠা হয়। তবে ওই স্কুলের নিজস্ব পরিকাঠামো না থাকায় সরস্বতী মেমোরিয়াল হিন্দি প্রাইমারি স্কুলের দুটি ক্লাসরুমে চলছিল পঠনপাঠন। ২০১২ সালে জুনিয়ার হাইস্কুলের নিজস্ব ভবন তৈরি করতে সর্বশিক্ষা মিশনের ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকা সরকারি কোষাগারেই পড়ে। প্রাইমারি স্কুলে পাঁচটি ক্লাসরুম ও মোট ৭৯ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। জুনিয়ার হাইস্কুলের পড়ুযার সংখ্যা ৫৯ জন। বর্তমানে প্রাইমারি স্কুলের তিনজন শিক্ষক ও জুনিয়ার হাইস্কুলের একজন টিচার-ইন-চার্জ রয়েছেন। চারজন শিক্ষক সকাল ও দুপুরে ভাগাভাগি করে দুই স্কুলের পড়ুয়াদের পড়াচ্ছেন।

- Advertisement -

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জমিতে জুনিয়ার হাইস্কুলের ভবন তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটি বন দপ্তরের অন্তর্গত। ওই দপ্তরে বারবার জানানো সত্ত্বেও লাভ হয়নি।  বুড়াগঞ্জ, রাঙালি, সিঙ্গিভিটা, ঝাড়ুজোত, বক্তারভিটা, তিনতোলা প্রভতি এলাকা থেকে হিন্দি ভাষাভাষীর পড়ুয়ারা এই জুনিয়ার হাইস্কুলে পড়াশোনা করতে আসে। ফলে নতুন ভবন তৈরি হলে আরও বেশি পড়ুয়া স্কুলে ভরতি হতে পারবে। বন দপ্তর ও শিক্ষা দপ্তরের গড়িমসি নিয়ে বিরক্ত স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুযাদের স্বার্থে স্কুল ভবন তৈরি নিয়ে উদ্যোগ নিক দুই দপ্তর। খড়িবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা কিশোরীমোহন সিংহ বলেন, ওই এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা বন দপ্তরের জমি দখল করে পাকা বাড়ি করে ফেলেছে। সে ব্যাপারে বন দপ্তর চোখ বন্ধ করে রেখেছে, অথচ যেখানে জুনিয়ার স্কুলটি তৈরি হবে সেখানে কোনো গাছ নেই। তিনি আরও বলেন, টুকরিযা রেঞ্জ বন দপ্তরের বাধাতেই স্কুল তৈরির কাজ এখনও ঝুলে রয়েছে। বক্তারভিটা হিন্দি জুনিয়ার হাইস্কুলের টিচার-ইন-চার্জ সুদর্শন সুনচেরি বলেন, জমি নিয়ে সমস্যা থাকায় সাত বছর ধরে স্কুলের জন্য ভবন তৈরির কাজ আটকে রয়েছে। আমি আসার আগে জেলাশাসককে এই ব্যাপারে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বন দপ্তর থেকে জমি দেওয়ার কথা ছিল। যে জমিটি স্কুলের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেই জমিতে কিছু গাছ আছে বলে বনবিভাগ ওপরমহলে রিপোর্ট পাঠায়। এর ফলে জেলাশাসক পুরো প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেন। বাতাসি সার্কেলের ভারপ্রাপ্ত এসআই চিরঞ্জিত ঘোষ বলেন, এখনও ওই স্কুলের কাজ কেন আটকে রয়েছে জানি না, তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।  কার্সিয়াং ডিভিশনের ডিএফও শেখ ফরিদ বলেন, বনভূমিতে স্কুল তৈরির আবেদন এখনও পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি। তাছাড়া  বনভমিতে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে হলে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পাঁচ হেক্টরের কম জমি হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অনুমোদন দিয়ে থাকি।