ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলঘর সারাই না হওয়ায় ক্ষোভ

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ : সাম্প্রতিক ঝড়ে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বেশকিছু প্রাথমিক স্কুলের ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ঝড়ের পর দুসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলঘরগুলির মেরামতি ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত শিক্ষা দপ্তর বা প্রশাসনের তরফে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বরং ঝড়ে কোথাও কোথাও স্কুলঘর ভেঙে গিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্লাস করাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন কল্যাণী পোদ্দার এ বিষয়ে বলেন, সাম্প্রতিক ঝড়ে জেলার কোথায়, কত প্রাথমিক স্কুলের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সার্কেলের এসআইদের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। মেখলিগঞ্জ থেকে এ ধরনের কোনো তথ্য এখনও পর্যন্ত পাইনি। রিপোর্ট পেলেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -

গত ১৩ জুলাই রাতে মেখলিগঞ্জ ব্লকজুড়ে ব্যাপক ঘূর্ণিঝড় হয়। এর জেরে স্থানীয় বহু স্কুলবাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। কোথাও ক্লাসঘরের চালা উড়ে গিয়েছে। কোথাও মিড-ডে মিলের শেডঘর ভেঙে পড়েছে। আবার কোথাও স্কুলের দরজা-জানলাও ভেঙে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি স্কুলের তরফে মেখলিগঞ্জের বিডিও এবং এলাকার প্রাথমিক স্কুলগুলির চক্রসম্পদ কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান জানিয়ে লিখিতভাবে সংস্কারের আর্জি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও এব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মেখলিগঞ্জ ব্লকে শতাধিক প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে জামালদহ ও উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশকিছু স্কুলবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জামালদহের হরনাথ চতুর্থ যোজনা প্রাথমিক স্কুলে তিনটি ভবনের সবকটির চালা উড়ে গিয়েছে। খোলা আকাশের নীচে বসেই স্কুলের ১১৭ জন ছাত্রছাত্রীকে এখন ক্লাস করতে হচ্ছে। ওই স্কুলের শিক্ষিকা মানসী রায়বসুনিয়া বলেন, এখন বর্ষাকাল। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। ক্লাসঘরের চালা না থাকায় ছাত্রছাত্রী ও তাদের বইপত্তর সব কিছুই ভিজে যাচ্ছে। অপর শিক্ষিকা শ্যামলী বর্মন বলেন, বেশি বৃষ্টি হলে বারান্দায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে। উলটোটাও ঘটছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে রোদ ঢুকছে ক্লাসে। ফলে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

বারুণী হরিবাসর চতুর্থ যোজনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজকুমার বর্মন জানান, ঝড়ে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের খাওয়ার ঘরের চালা পুরোপুরি উড়ে গিয়েছে। ফলে এখন তাদের খোলা আকাশের নীচে বসেই খেতে হচ্ছে। মেখলিগঞ্জের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়া ও প্রাথমিক স্কুলসমূহের অবর বিদ্যালয পরিদর্শক বরুণ বিশ্বাস জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত রিপোর্ট দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হবে। তারপর যা নির্দেশ আসবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।